
কলকাতা: সিপিএম এবং মমতা-তৃণমূল কি কাছাকাছি? নির্বাচনেও কি এবার জোট বাঁধার সম্ভাবনা? সম্প্রতি, এসআইআর ইস্যুতে এম এ বেবি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি আদান-প্রদান ও ফোন কথোপকথন নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। দিন দুয়েক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি কোনও রং দেখবেন না। অর্থাৎ বিজেপিকে সরাতে যে সিপিএম-এর সঙ্গেও সমঝোতায় রাজি তিনি, তা তাঁর বার্তাতেই স্পষ্ট ছিল। যদিও, বিমান বসু, সেলিমরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলায় কোনওভাবে মমতা তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতায় যাবে না সিপিএম। এই আবহে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বসলেন ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
সিপিএম-কে পার্টি চিঠিতে আগাম হোমওয়ার্ক করার পরামর্শ দিয়েছেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, “সিপিআইএম-এর পার্টি চিঠি নিয়ম করে বেরোয়। আমি তো বলব এখন একটা পার্টি চিঠি ড্রাফট করে রাখা দরকার। এরপরে তো পার্টি চিঠিতে লিখতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন সমর্থন করছেন। আমার মনে হয় সিপিআইএম যুক্তিগুলি সাজিয়ে ফেলুক, যে কেন তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করছেন।”
এরপরই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যটি করেন ঋতব্রত। বলেন, “কারণ পার্টি চিঠিতে এরকম যদি হয় দক্ষিণ কলকাতায় বামফ্রন্ট সমর্থিত হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী দেওয়াল লিখতে হয় সিপিআইএমকে, আমার মনে হয় পার্টি চিঠিতে আগাম হোমওয়ার্ক করে রাখলে ভালো হয়।”
সিপিএম-তৃণমূল ‘সখ্যতা’ নিয়ে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতাকে মনে করিয়ে দেন নন্দীগ্রামের কথা, তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা পিছনে কারণের কথা। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যখন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তখন কংগ্রেস থেকে ঘাড় ধাক্কা খেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ রাজ্যে কমিউনিস্ট শাসনকে শেষ করার জন্য ওনাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন অটলজি। ৩৪ বছরের সিপিএমের অত্যাচার, অবিচার, সীমাহীন মানবাধিকার লঙ্ঘন, নন্দীগ্রাম থেকে নেতাই পর্যন্ত, তার উপরে দাঁড়িয়ে তৃণমূল। এখন সিপিএম ওঁদের বন্ধু হয়েছে।”