
কলকাতা: যৌন হেনস্থা, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। নিউ আলিপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। থানার ভিতর যখন বসে স্বরূপ, তখন বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন টেকনিশিয়ান স্টুডিওর টেকনিশিয়ানরা-সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরেই স্বরূপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এবার তাঁর গ্রেফতারিতে মুখ খুললেন রুদ্রনীল। তিনি বললেন, স্বরূপ বিশ্বাস একনায়কতন্ত্র চালাতেন। প্রত্যেককে তাঁকে নিজের ইচ্ছা মতো ব্যবহার করতেন। ঠিক কী বললেন রুদ্রনীল?
বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বললেন, “এমনটা সময়ের ডাক বলা যায়। কারণ যে লেভেল অফ জায়গায় তৃণমূলের বিভিন্ন নেতারা বিভিন্ন জায়গায় তোলাবাজি, হুমকি, ধমকি, প্রাণনাশের চেষ্টা করে গিয়েছেন, এই সব ভয় দেখিয়েছিলেন, অভিযোগ লাগাতর আসছিল। এই ঘটনা ঘটাই স্বাভাবিক। কী করেছেন, কোন কোন জায়গায়, তা জানি না। অন্যায় করলে শাস্তি ঈশ্বর দেন।”
এই কথা বলতে গিয়েই রুদ্রনীল বলেন, “টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে প্রত্যেককেই খুব অদ্ভুতরকমভাবে ব্যবহার করতেন, তাঁরা যদি তাঁর ইচ্ছা মতো ব্যবহৃত না হতেন, তাহলে তাঁদের কাজ কেড়ে নেওয়া হত। তিনি টেকনিশিয়ান হোন, কিংবা শিল্পী-প্রযোজক হোন!” তিনি যে সময়ে স্বরূপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, তাঁকে কী পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছিল, তারও ব্যাখ্যা দেন রুদ্রনীল। বলেন, “এই স্বরূপের বিরুদ্ধে যখন আমি সরব হয়েছিলাম, তখন এই স্বরূপ আমার বিরুদ্ধে আমার টেকনিশিয়ান ভাইদের বুকে কালো ব্যাজ় পরিয়ে বার করিয়েছিলেন।”
টলিগঞ্জের কলাকুশলীদের একটা বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরেই স্বরূপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছিলেন। যে অভিযোগগুলো স্বরূপের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল, তা গ্রহণ করল পুলিশ।
বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “গত দেড় দশক ধরে যেভাবে মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, এটা তারই পরিণতি। শিল্পী সমাজ তার ব্যতিক্রম নয়। যারা গিল্ড, যারা বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে প্রতি কাজের বিনিময়ে নির্দিষ্ট টাকা তোলা হত। সকলেই বিশ্বাস করতেন, একমাত্র এই বিশ্বাস ব্রাদার্স নাকি এর সঙ্গে যুক্ত।”
প্রসঙ্গত, টলিগঞ্জের কলাকুশলীদের একটা বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরেই স্বরূপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছিলেন। যে অভিযোগগুলো স্বরূপের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল, তা গ্রহণ করল পুলিশ। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রিজেন্ট পার্ক এলাকার বাসিন্দা এক মহিলা স্বরূপের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি টালিগঞ্জের মেকআপ আর্টিস্ট ফেডারেশনের সদস্য। বছর দুয়েক ওই মহিলা কোনও কাজ পাননি বলে অভিযোগ। কাজ চাইতে গেলে তাঁর কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। এমনকি, তাঁকে ভয়ও দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর ৭৫(১) (ii), ৩০৮(৪), ৩০৮(৫), ১০৯, ৩৫১(৩), ৬১ ধারার সঙ্গে অস্ত্র আইনের ২৫/২৭ ধারা যুক্ত করে মামলা রুজু করা হয়েছে।