
কলকাতা: বালি পাচার দুর্নীতির মোক্ষম অস্ত্র এবার ইডি-র হাতে। বালি পাচারকাণ্ডে উদ্ধার শতাধিক ই-চালান। ই-চালানে স্পষ্ট রয়েছে স্ক্যানারে থাকা ব্যবসায়ী সৌরভ রায়ের নাম। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ই চালানের কিউ আর কোড জালিয়াতি করে চলে দেদার বালি চুরি। চালানে নাম রয়েছে এক জনের, অথচ স্ক্যান করলে দেখা যাচ্ছে অন্য সংস্থার। অভিযোগ, স্ক্যানার জাল করে কোটি কোটির রাজস্ব ফাঁকি করা হয়েছে। এবার ওই ই চালানের সূত্র ধরেই বালি পাচারের মাথার খোঁজে ইডি।
একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর ই চালান বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। TV9 বাংলার হাতে যে এক্সক্লুসিভ ই চালান এসেছে, তার হার্ড কপিতে দেখা যাচ্ছে মাইনিং লিজ হোল্ডারের নাম রয়েছে ঝাড়গ্রামের বালি ব্যবসায়ী সৌরভকুমার রায়ের নাম। কিন্তু সেই হার্ড কপিতে যে কিউ আর কোড রয়েছে, তাতে স্ক্যান করলে, মোবাইলে একটা লিঙ্ক আসছে, সেই লিঙ্কে ক্লিক করলে যে সাইট খুলছে. তাতে মাইনিং লিজ হোল্ডার হিসাবে নাম রয়েছে ভিনীত ইনফোটেক প্রাইভেট লিমিটেড। অথচ চালান নম্বরও এক। তদন্তকারীরা বলছেন, এইভাবেই কিউ আর কোড জালিয়াতি করেই বালি পাচার হত।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার মেদিনীপুরের বালি ব্যবসায়ী সৌরভ কুমার প্রাসাদপম বাড়িতে তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর একাধিক নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। আনা হয় টাকা গোনার মেশিন। বাড়ি থেকে উদ্ধার ৬৪ লক্ষ টাকা। এরপরই নদীর ধার থেকে বালি তুলে আনা সৌরভেরই কোম্পানির একটি ট্রাককে আটকান সরকারি আধিকারিকরা। তিনি গাড়ি থেকে ই চালান উদ্ধার করেন। সেই ই চালানে স্ক্যান করতেই ধরা পড়ে এই দুর্নীতি।