
কলকাতা: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলায় সিঙ্ঘম। ‘সিঙ্ঘম’ আসলে অজয় পাল শর্মা। অভিষেকের গড়ে দাঁড়িয়ে তিনি বলে দিয়েছেন, ‘দুষ্কৃতীদের বিষ দাঁত ভাঙবেন’! বলার নয়, করেও দেখাতে পারেন, কারণ দুঁদে পুলিশ কর্তার পাশাপাশি অজয় পাল শর্মা পেশায় একজন ডেন্টাল সার্জনও! উত্তরপ্রদেশের মাটিতেও কান পাতলে শোনা যায়, অজয় দেবগনের থেকেই ‘টাফ’ এই পুলিশ কর্তা। আর সোমবার হাতেনাতে তারই প্রমাণ পেয়ে গেল ফলতা।
ফলতায় ‘বাদশা’ জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে যখন গেলেন অজয় পাল শর্মা। দুঁদে কর্তা বাড়িতে আসছেন, শুনেই অবশ্য আগেভাগে ‘হাওয়া’ হয়ে যান তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। ফলতা ডায়মন্ডহারবারের একটি বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানে প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। এসআইআর পর্ব থেকেই এই জাহাঙ্গির খানের নাম বারবার উঠে এসেছে সামনে। মৃত ভোটারের নাম তালিকায় তোলার অভিযোগ, যা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছিল কমিশনেরও। এবার ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ! সেই জাহাঙ্গিরের বাড়ির সামনে গিয়ে শাসিয়ে এলেন দুঁদে কর্তা। যেমনটা আর কী আমরা অজয় দেবগনের সিনেমায় দেখতে অভ্যস্ত! তারই বাস্তবিক রূপ দেখলেন ফলতাবাসী। যার ভিডিয়ো এখন সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল।
এবার আসা যাক কে এই অজয় পাল শর্মা?
পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্ম এই দুঁদে কর্তার। পাতিয়ালা কলেজ থেকে ডেন্টাল সার্জেনের ডিগ্রি রয়েছে তাঁর। ডাক্তার হয়েও পুলিশের পেশা বেছে নেন তিনি। তিনি উত্তরপ্রদেশে একাধিক অপরাধীকে এনকাউন্টার করেছেন, তাই এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট হিসাবেই তিনি বেশি সুপরিচিত। নির্বাচন কমিশন তাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করেছে।
২০১১ সালের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের একজন দুঁদে আইপিএস (IPS) অফিসার, যিনি তাঁর কড়া মেজাজ ও এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট হিসাবে পরিচিত। এই পুলিশ কর্তা বর্তমানে যোগীর রাজ্যের প্রয়াগরাজে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসাবে কর্মরত। ২০২৪ সালের মহাকুম্ভ মেলায় নোডাল অফিসার হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। ২০২৫ সালে ডিজির স্বর্ণপদক পেয়েছেন।