
নয়াদিল্লি: এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেই কি ভারতীয় নাগরিকত্ব হারাতে হবে? বেশ কিছুদিন ধরেই এই প্রশ্ন উঠেছে। এবার একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মৌখিকভাবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই নাগরিকত্ব হারানো নয়। আর সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পরই দেশের আসল নাগরিক কারা, তা আরও একবার স্পষ্ট করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন (Indian Citizenship Act, 1955)-ই দেশের আসল নাগরিক নির্ধারণের একমাত্র আইনি ভিত্তি। সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই আইন অনুযায়ী ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ভারতে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেই এ দেশের বৈধ নাগরিক।
ভোট আবহে রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া নিয়েও কিছুটা হালকা চালেই বলেন, “আমরা এটা করেছি। কারণ কাউকে না কাউকে তো এই দায়িত্বটা নিতেই হত।” আর সেই কথা প্রসঙ্গেই বলেন, “থোরা দিল চাহিয়ে, জিগর চাহিয়ে।” তবে এক্ষেত্রে যে সাধারণ মানুষের পূর্ণ সমর্থন ছিল, আর সেই কারণেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেটাও উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করেছেন, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী অনুযায়ী, ভারতে জন্মগ্রহণের সময়ের ওপর ভিত্তি করে নাগরিকত্বের প্রমাণকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১ জুলাই ১৯৮৭ সালের আগে জন্ম: এই নির্দিষ্ট তারিখের আগে ভারতের মাটিতে যাদের জন্ম হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই জন্মসূত্রে বা বংশসূত্রে সরাসরি ভারতের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন।
১ জুলাই ১৯৮৭ থেকে ২ ডিসেম্বর ২০০৪-এর মধ্যে জন্ম: এই সময়কালের মধ্যে ভারতে জন্ম হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের জন্ম শংসাপত্রের পাশাপাশি তাঁর পিতা অথবা মাতার মধ্যে যেকোনো একজনের ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ প্রমাণ দাখিল করতে হবে।
২ ডিসেম্বর ২০০৪-এর পরে জন্ম: এই তারিখ বা তার পরবর্তী সময়ে ভারতে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য আবেদনকারীর নিজের নথির পাশাপাশি পিতা ও মাতা—উভয়কেই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং তার উপযুক্ত প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।