
কলকাতা: স্মার্ট মিটার (Smart Meter) নিয়ে বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। আজ মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, রাজ্যে প্রতিটি বাড়িতে স্মার্ট মিটার লাগানো বাধ্যতামূলক নয়। আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে প্রতি মাসে মাসেই বিদ্যুতের বিল আসবে।
আজ বিধানসভা থেকে বক্রেশ্বরে নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘোষণা করেন যে সমস্ত আইসিডিএস সেন্টারে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। এরপরি তিনি স্মার্ট মিটার নিয়ে ঘোষণা করেন। বলেন, রাজ্যে স্মার্ট মিটার বসানো বাধ্যতামূলক নয়।
বামপন্থীদের আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে এই ঘোষণা শুনে হাওয়া বেরিয়ে যাবে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির নির্দেশে ভারত সরকার ডোমেস্টিকের ক্ষেত্রে স্মার্ট মিটার লাগানো বাধ্যতামূলক করছে না।”
তিনি বলেন, “মিছিল করার সুযোগ পাবেন না বামপন্থীরা। বামপন্থীদের হাওয়া বেরিয়ে যাবে। যাদবপুর পার্টি সাবধান থাকুন। উস্কানি দিতে শুরু করেছেন। বেশি বাড়তে দেব না, এটা দুর্বল সরকার নয়। এটা শক্তিশালী সরকার।”
বিরোধীদের ‘হৃদকম্পন’ ধরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে গোটা রাজ্যেই প্রতি মাসে মাসে বিল আসবে। আর তিন মাস অন্তর বিল আসবে না। গ্রামীণ এলাকায় লাইট মোবাইল ভ্যান দ্বিগুণ করা হবে এই অর্থবর্ষে। কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে লোক দ্বিগুণ করা হবে।
রাজ্যের আইসিডিএস সেন্টারগুলির জন্যও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন যে ৫৪ হাজার আইসিডিএস সেন্টারে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে বিনামূল্যে আলো ও পাখা দেওয়া হবে। এছাড়াও ১ হাজার গার্লস স্কুল-কলেজে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন দেওয়া হবে বিদ্যুৎ দফতরের তরফে, কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিলিবিটির অধীনে।
রাজ্যের মানুষের উপরে বিদ্যুতের বোঝা কমাতে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ববর্তী সরকার কেন্দ্রের যে বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে যুক্ত হয়নি, সেই প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে রাজ্য সরকার। পিএম ই-ড্রাইভ প্রকল্পের অধীনে নোডাল সংস্থা হিসাবে WBSEDCL-কে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। রাজ্য জুড়ে প্রচুর ইভি চার্জিং স্টেশন তৈরি হবে। প্রাইভেট, কমার্শিয়াল গাড়ির চার্জিংয়ের পরিষেবাও দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পিএম কুসুম প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, এতে কৃষকদের বিদ্যুতের খরচ অনেকটা কমবে। ১ অগস্ট থেকে কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রত্যেক ইউনিটে ২ টাকা করে অতিরিক্ত সাবসিডি দেওয়া হবে।
পাশাপাশি ডিভিসির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পাঞ্চেতে এক হাজার মেগাওয়াট পাম্প স্টোরেজের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সোলার প্রকল্পে ১৮২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।