
কলকাতা: ১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। হেরে গিয়েছেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় এখন বিরোধী আসনে বসতে হবে ঘাসফুল শিবিরকে। মমতা নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হবেন, তা নিয়ে ফল বেরনোর পর থেকে জল্পনা চলছিল। অবশেষে শনিবার বিধানসভার বিরোধী নাম জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় হলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা।
আর কে কী দায়িত্ব পেলেন?
বিধানসভার বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের আরও তিন বিধায়ক বড় দায়িত্ব পেলেন। বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের চিফ হুইপ হলেন ফিরহাদ হাকিম। ডেপুটি বিরোধী দলনেতা ২ জনকে করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্র হলেন বিধানসভার ডেপুটি বিরোধী দলনেতা।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনে জিতেছে তৃণমূল। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গিয়েছেন মমতা। ফলে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে মমতাকে কাকে দায়িত্ব দেবেন, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছিল। ভোটের ফল ঘোষণার পর বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার নাম ঘোষণা করা হয়নি।
শনিবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর এবার বিধানসভার বিরোধী দলনেতার নাম চূড়ান্ত করল তৃণমূল। তৃণমূল গঠনের পর থেকে মমতার বিশ্বস্ত সঙ্গী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব দেওয়া হল। ছাব্বিশের নির্বাচনে বালিগঞ্জ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন তিনি। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল প্রতিষ্ঠার পর ঘাসফুল শিবিরের প্রথম বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। আবার ২০২১ সালের নির্বাচনে মমতা নন্দীগ্রামে পরাজিত হওয়ার পর ভবানীপুর আসনটি ছেড়ে দিয়েছিলেন শোভনদেব। সেই শোভনদেবের উপরই আগামী ৫ বছর বিধানসভায় তৃণমূলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দিলেন মমতা।
তৃণমূলের আর এক বর্ষীয়ান নেতা ফিরহাদ ওরফে ববি হাকিম। দলের এই ভরাডুবির মধ্যেও কলকাতা বন্দর আসন থেকে বিপুল ব্যবধানে জিতেছেন তিনি। শোভনদেবের মতো তিনিও মমতার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী। তাঁকে বিধানসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ করা হল। আর চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও হুগলির ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র হলেন বিধানসভার ডেপুটি বিরোধী দলনেতা।