
কলকাতা: বিরোধীরা বলত, সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাঠে-ময়দানে রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? তিনি তো মেঠো রাজনীতি করেননি। ফলে তিনি বুঝবেন কীভাবে যে সকল কর্মীরা মার খান তাঁদের ব্যথা? শনিবার হয়ত সেই তত্ত্বই একদম ভেঙে চুড়ে ছাড়খাড় হয়ে গেল। অভিষেক মাঠে নামলেন। মার খেলেন। গালিগালাজও শুনলেন। হয়ত বা বুঝলেন জনরোষ ঠিক কেমন হয়। যে সময় তাঁর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে, সেই সময় এক সাংবাদিক রক্ষার চেষ্টা করলেন। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে গেল। এই অভিজ্ঞতা অভিষেকের রাজনৈতিক জীবনে প্রথম। পরে যখন কলকাতা ফিরলেন তাঁকে দেখতে ছুটে এলেন সর্বময় নেত্রী তথা তাঁর পিসি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রথম দিন থেকে থাকা নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমরা। বাকি তরুণ মুখ কোথায়? এক সময় যে আদি-নব্যের দ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল দলের অন্দরে। অভিষেকের ‘দুঃসময়ে’ দেখা গেল তাঁর পাশে দাঁড়ালেন সেই ‘আদি’ নেতারা। নতুনদের ঠিক কাউকে ততটা দেখা গেল না।
আজ কে কে এলেন অভিষেকের পাশে?
শনিবার বিকেল নাগাদ সোনারপুরে পৌঁছন অভিষেক। ভোট পরবর্তী হিংসায় মৃত কর্মীর বাড়িতে। সেখানে যাওয়ার পথে এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার শিকার হলেন তিনি। মার খেতে হয়েছে তাঁকে। হেলমেট পরেছিলেন বলে হয়ত তাঁর অসুস্থ চোখ বেঁচে গিয়েছে, নয়ত…। পরপর ছোড়া হয়েছে ডিম। ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে বেল্ট। মাথায় খানিক চোট পেয়েছেন। আহত অভিষেক বিকেল গড়িয়ে সন্ধে হওয়ার পর কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহযোগিতায় ওঠেন গাড়িতে। এরপর তিনি পৌঁছন সল্টলেকের বেসরকারি হাসপাতালে। তৃণমূল সাংসদ আসছে শুনেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, লতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন সল্টলেকের ওই বেসরকারি হাসপাতাল ভর্তি নিচ্ছে না অভিষেককে। ফের নিজের গাড়িতে করে অভিষেককে সঙ্গে নিয়ে তিনি যান অপর বেসরকারি হাসপাতালে।
ফিরহাদ হাকিম ও ডেরেক ও’ব্রায়েন
এ দিন, যখন অভিষেক মার খাচ্ছেন সেই সময় প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন ডেরেক। পুলিশ কোথায়, বিজেপি কর্মীদের দ্বারা তিনি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে তিনি পোস্ট করেন।
WHAT IS HAPPENING NOW IN BENGAL The Lok Sabha Leader of the second largest Opposition party @AITCofficial went to visit the family of a person murdered by BJP in post poll violence. @abhishekaitc was lynched and attacked by a few BJP supporters. Life at risk. Where are the police…
— Derek O’Brien | ডেরেক ও’ব্রায়েন (@derekobrienmp) May 30, 2026
এলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়
যে সময় তৃণমূল তৈরি হয়েছিল সেই সময়কার সৈনিক ছিলেন শোভন। প্রতি বছর তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ভাইফোঁটা নেন। দিদি বলে ডাকেন তাঁকে। মাঝে দূরত্ব বেড়েছিল বলে বিজেপিতে যোগ দিলেও পরে ফের তৃণমূলে ফেরেন তিনি। সম্প্রতি, দল হারতেই তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন ভোটের সময় শোভনকে ব্রাত্য করে রাখা হয়েছিল। অথচ, আজ তাঁকেই দেখা গেল অভিষেকের পাশে। শুধু পাশে বলা ভুল, তৃণমূল সাংসদের পাশে বসে তিনি তাঁর সঙ্গে পৌঁছন হাসপাতালে
সরব হলেন কুণাল, কল্যাণরা..
এ দিন অভিষেককে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছন কুণাল ঘোষ। তার আগে সাংবাদিকদের সামনে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অন্যদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে না যেতে পারলেও তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপিকে। অপরদিকে, হাসপাতালে সাংসদকে দেখতে ছুটে যান মালা রায়ও।
নতুনরা কই?
অভিষেকপন্থী হিসাবে তথাকথিতভাবে যাঁদের নাম উঠে আসে যেমন সায়নী ঘোষ, অরূপ চক্রবর্তী, সন্দীপন সাহা, শ্রেয়া পান্ডে সহ এই সকল নেতা-নেত্রীদের দেখা গেল না কোথায়। হতে পারে তাঁরা হয়ত পরে সরব হবেন কিংবা পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু আজ অভিষেকের পাশে ছিলেন তথাকথিত পুরনোরাই।