
কলকাতা: মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগে বা দফতরে যে সব আধিকারিকরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা একে একে পদত্যাগ করছেন। এবার ইস্তফা শিক্ষা দফতরে। দুই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা আধিকারিকের পদত্যাগপত্র পৌঁছল শিক্ষা দফতরে। পরপর পদত্যাগপত্র পাঠালেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার (Siddharth Majumdar) ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়।
তৃণমূল সরকারের আমলে সবথেকে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা দফতরের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হন মন্ত্রী, বদলে ফেলা হয় পর্ষদ ও কমিশনের মাথায় থাকা ব্য়ক্তিদেরও। তবে তৃণমূল সরকারের আমলের পুরো কাঠামোই সরিয়ে ফেলা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। সেই কারণেই শিক্ষা দফতরের ক্ষেত্রে একাধিক ‘অ্যাকশন’ নিচ্ছে রাজ্যের নবগঠিত বিজেপি সরকার। শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে একেবারে খোলনলচে বদলে ফেলা হচ্ছে।
নিয়োগ দুর্নীতির আবহে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পরামর্শে এসএসসি-র চেয়ারম্যান বদলেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। ২০২২ সালে চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হন সিদ্ধার্থ মজুমদার। তাঁর আমলে এসএসসি-র নিয়োগ পরীক্ষাও হয়। গত জানুয়ারি মাসে ওই পদে সিদ্ধার্থর অবসর নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু রাজ্য ৬ মাস মেয়াদ বৃদ্ধি করে। সব মিলিয়ে ৪ বছর ৪ মাস ওই পদে ছিলেন সিদ্ধার্থ মজুমদার। শিক্ষা দফতরের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, শিক্ষা দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় সরে যাওয়ার পর মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পান রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। গত সপ্তাহে মাধ্যমিকের ফল প্রকাশও করেন তিনি। এরপরই মুখ্যসচিবের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন ইস্তফাপত্র।
এসএসসির আঞ্চলিক কার্যালয়ের চেয়ারপার্সনরাও পদত্যাগ করেছেন। এদিকে কলেজ ও স্কুলগুলিতে থাকা গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়ে থাকলে, তা রিভিউ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ সহ অন্যত্র বয়স পেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।