
কলকাতা: কয়েকদিন আগে ‘ভালো তৃণমূলের’ জন্য বিজেপির দরজা খোলার কথা বলেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। বিজেপির রাজ্য সভাপতির সেই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছিল। ‘ভালো তৃণমূল’ কারা, সেই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এবার বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনশল বললেন, কাউকে বিজেপিতে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাছবিচার যেন না করা হয়। কেন একথা বলছেন তিনি, সেই যুক্তিও দেন। বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক বললেন, কেউ নিজের স্বার্থে বিজেপিতে আসতে চান। কিন্তু, তাঁকে দলে নিয়ে যোগ্য কার্যকর্তা বানানোর বিজেপির দায়িত্ব।
কী বললেন সুনীল বনশল?
রবিবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ অন্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আর এই অনুষ্ঠানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুনীল বনশল বলেন, “কাজ করতে করতে আমাদের মনে অনেক সময় প্রশ্ন জাগে, আমরা বিজেপিতে কেন কাজ করছি? আমি অনেকবার কার্যকর্তাদের জিজ্ঞাসা করি, আপনি কেন বিজেপিতে? বিজেপিতে আছেন, কী কাজ করেন?”
এরপরই বিজেপিতে যোগদান নিয়ে সুনীল বনশল বলেন, “আমাদের কাছে সব ধরনের লোক আসবে। আসাও দরকার। একে নেওয়া উচিত, ওকে নেওয়া উচিত নয়, এরকম কোনও বার্তা দেওয়া ঠিক নয়। আমাদের সংগঠন এতটা মজবুত হওয়া দরকার যে, যিনিই আমাদের দলে আসবেন, তিনি আমাদের মতো হয়ে আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন।”
‘নিজের স্বার্থেও আসতে পারেন’
অনেকেই যে নিজের স্বার্থে বিজেপিতে আসতে চান, তা মেনে নিয়ে সুনীল বনশল বলেন, “কাউকে নেওয়ায় আপত্তি নেই। কিন্তু, ভাবনায় আপত্তি রয়েছে। যিনি আসছেন, তিনি নিজের স্বার্থেও আসতে পারেন। কিছু পাওয়ার আশায় আসতে পারেন। যিনি আসছেন, তাঁর চিন্তাভাবনা যেমনই হোক না কেন, আসার পর আমাদের সঙ্গে কাজ করতে করতে আমাদের বিচারধারা মেনে সারাজীবন যাতে কাজ করেন, তেমন তাঁকে তৈরি করা আমাদের দায়িত্ব।”
বিজেপির সংগঠনের উদ্দেশ্য জানালেন সুনীল বনশল-
বিজেপির সংগঠনের উদ্দেশ্য নিয়ে বনশল বলেন, “সব ধরনের লোক আসবে। আমরা ৮০ শতাংশ হিন্দুদের সংগঠন করার জন্য এসেছি। কিছু লোকের সংগঠন করার জন্য আমরা আসিনি। যতক্ষণ একজন হিন্দুও আমাদের সংগঠনের বাইরে রয়েছেন, তাঁকেও আমাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা আমাদের দায়িত্ব। ফলে এটা মাথায় রাখবেন না যে একে নেওয়া যাবে না, ওকে নেওয়া যাবে না। সব ব্যক্তিকে সংগঠনে যুক্ত করাই আমাদের কাজ। সেই পথে হেঁটেই আমাদের দলের আজ ১৮ কোটি সদস্য। সংগঠনে যুক্ত করা আমাদের কাজ। আর সংগঠনে যুক্ত হওয়ার পর তাঁকে যোগ্য কার্যকর্তা বানানোই আমাদের দায়িত্ব।”