
কলকাতা: ক্ষমতায় আসার পর একধাক্কায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ওবিসি-নীতি বাতিল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য চালু থাকা ওবিসি সংরক্ষণ আপাতত সম্পূর্ণ বাতিলের ঘোষণা করা হয়েছে। আর এবার অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির বা OBC তালিকা খতিয়ে দেখতে বিধায়কদের বিশেষ নির্দেশ দিলেন শুভেন্দু।
আজ সোমবার, ২৬ জন বিধায়ককে নিয়ে নবান্নের ১৪ তলায় বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়ি, পুরুলিয়া, বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা সহ একাধিক জেলার বিধায়কদের ডাকা হয়েছিল নবান্নে। সেখানেই এদিন ওবিসি তালিকার পুনর্বিবেচনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আগেই জানিয়েছেন, ২০১১-র পর থেকে যত ওবিসি শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, বিশেষত যেগুলি দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে, সেগুলি খতিয়ে দেখা হবে। এদিন সে ব্যাপারেই নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, প্রত্যেক বিধায়ককে নিজের নিজের এলাকায় আবার নতুন করে সার্ভে করতে হবে। ৪ মাস সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ওই সার্ভে করার কাজ শেষ করতে হবে। সেই সার্ভে করে কে কোন জাতি/ উপজাতিভুক্ত সেই তালিকা তৈরি করতে হবে।
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই রাজ্যে ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) সংরক্ষণ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওবিসি সংরক্ষণ ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে। বাতিল হয় মমতার আমলের ওবিসি সংরক্ষণ নীতি। তৃণমূল আমলে ওবিসি সংরক্ষণ ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৭ শতাংশ করা হয়েছিল। বহু মুসলিম গোষ্ঠীর নাম ওবিসি সংরক্ষণ তালিকায় ঢোকানো হয়। তা নিয়ে মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর জারি করা সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল।