
কলকাতা: পূর্বতন সরকারে বাংলা সাক্ষী থেকেছে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় হোক কিংবা স্কুলে সরস্বতী পুজো, তাতে বাধা দান, শেষ পর্যন্ত আদালতের হস্তক্ষেপের একাধিক নিদর্শন। TV9 বাংলার কনক্লেভে এসে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা ও তাতে ধর্মীয় বিভাজনের প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত সরকারের আমলে যেভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় উৎসব ও সরস্বতী পুজো বন্ধ করার ‘সংস্কৃতি’ চালু হচ্ছিল, তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ঐতিহ্যগতভাবে বাংলায় সরস্বতী পুজো কেবল কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না, হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন—সব ধর্মের ছাত্রছাত্রী মিলেই বিদ্যার দেবী হিসেবে সরস্বতী পুজোকে একটি সার্বজনীন উৎসবের রূপ দিত।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নাম না করে তিনি ক্ষোভ উগরে বলেন, “সরস্বতী পুজোয় পুষ্পাঞ্জলি হিন্দু ধর্মমতে দিত। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিষ্ট্রান, জৈন সবাই মিলে বিদ্যার দেবী হিসাবে তাঁকে আমরা বাংলায় গ্রহণ করতাম। আমি ধর্মীয় প্রথা না-ইবা মানতাম। উৎসব হত বিদ্যালয় বিদ্যালয়ে। আপনি বদলে দিয়েছেন।”
বিগত সরকারের আমলে কীভাবে ধর্মীয় বিভাজন হচ্ছিল, সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আপনি কী বোঝালেন, সরস্বতী মানে কেবলমাত্র হিন্দুদের দেবী। কেবলমাত্র হিন্দুরাই এই পুজো করতে পারেন। তাতে ফল কী হল? মুর্শিদাবাদ জেলায়. উলুবেড়িয়ায়, বিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম ছাত্রছাত্রী বেশি, সেখানে মাস্টারমশাইকে বলা হল সরস্বতী পুজো বন্ধ করুন। আগে ছিল না বাংলাতে। আমরা বিভাজন করি না। আপনারাই বিভাজনের রাজনীতি করেছেন। “
ঐক্য ও সার্বজনীন ঐতিহ্য ভঙ্গ: অতীতে ধর্মীয় প্রথা ছাপিয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ে পুজো উৎসবের মতো পালিত হতো। কিন্তু রাজনীতি ও বিভাজনের সংস্কৃতির কারণে সরস্বতী পুজোকে সংকীর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা শুরু হয়েছে।
নগরউগরা ও যোগমায়াদেবী কলেজের ঘটনা
সরস্বতী পুজোতে ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে বিগত সরকারের আমলে যা যা হয়েছে, সে কথা বলতে গিয়েই নগরউগরা ও যোগমায়া দেবী কলেজের কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, “বিগত সরকারের এক নেতা, আল-আমিন মণ্ডল বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষককে প্রশ্ন তোলেন—মাত্র ১৭ জন হিন্দু শিশু পড়ে বলে কেন সেখানে পুজো করা হচ্ছে।” তাঁর প্রশ্ন, কেন বাংলায় এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে?
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ঐতিহাসিক যোগমায়াদেবী কলেজের ছাত্রীদের আদালতে গিয়ে আবেদন জানিয়ে সরস্বতী পুজোর অনুমতি আনতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
রাজনৈতিক স্বার্থে বিভাজন
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সাধারণ মানুষ বা বিভিন্ন সম্প্রদায় নিজেরা বিভাজন সৃষ্টি করেনি; বরং রাজনৈতিক স্বার্থেই শিক্ষাঙ্গন ও পুজোকে ঘিরে এই বিভাজনের রাজনীতি তৈরি করা হয়েছিল। এই সরকার তা একেবারেই যে বরদাস্ত করবে না, সেটাও স্পষ্ট করে দেন তিনি।