
কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে দুর্ঘটনা ঘটার পরই হাসপাতালে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মধ্যরাতে চোরবাগানের মণ্ডপেও যান তিনি। বিশেষ টিম তৈরি করে মণ্ডপগুলি পরিদর্শন করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও সেরে ফেলেছেন তিনি। রবিবার সকালে বৈঠক সেরে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মৃতদের পরিবারগুলির সঙ্গে নিজে দেখা করবেন তিনি। চোরবাগানের ঘটনায় যে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে, সে বিষয়েও এদিন উত্তর দেন শুভেন্দু।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেউ মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন ক্যাব বুক করে তাঁদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিল পুলিশই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অভিযোগ মূলত অস্থায়ী হোমগার্ডদের বিরুদ্ধে। বিগত ২ বছর ধরে ডিউটি করে তৃতীয় বছর ডিউটি করছে এরা। আমি নামের তালিকা চেয়েছি।” শনিবার রাতের ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “একজন হোমগার্ডের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, রাত দেড়টার সময়। বাংলায় কথা বলতে অস্বীকার করল। বাংলা বুঝতে পারে না।”
এই হোমগার্ডদের নিয়োগ আগের সরকারের সময় হয়েছিল বলে উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “অনেক আবর্জনা বয়ে নিয়ে যাচ্ছি। পরিষ্কার করতে সময় লাগবে। এই লোকগুলির নামের তালিকা তৈরি করতে হবে।” তিনি আরও জানান, ভিতরে কোনও ঘটনা ঘটেছি। ঘটলে, সংখ্যাটা অনেক বেশি হতে পারত। এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্টের কাছে ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কীভাবে পদপিষ্ট হলেন দর্শনার্থীরা, সে কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “বৃষ্টি হয়েছে, দড়ি ছেড়ে দিয়েছে। যারা দড়ি ধরেছিল।”
মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, আহত ২৫ জনের অবস্থা স্থিতিশীল। মৃতদের দেহ তুলে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আজ, রবিবার সকালে চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব, ডিজি সহ সব উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
সেখান থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু জানিয়েছেন, ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হবে মৃতদের পরিবারের হাতে। বিহারের পরিবার বাদে বাকি সব পরিবারের সঙ্গে নিজে গিয়ে দেখা করবেন শুভেন্দু। এছাড়া পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখান ভিড় হবে, সেখানে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে হবে। পৃথক ভিআইপি লাইন বন্ধ করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।