
কলকাতা: একুশে জুলাইয়ের সভা কেন্দ্র করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ‘মমতাপন্থী’ বনাম ‘ঋতপন্থীদের’ সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া ‘ছন্নছাড়া’ পরিবেশ নিয়ে বিধানসভায় সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার অধিবেশনে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করার পাশাপাশি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম-নিশান বাংলায় আর থাকবে না।”
এদিনও বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়েই ছিল তৃণমূল আমলের একাধিক দুর্নীতি ও ‘ভাইপো’ প্রসঙ্গ। শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, শুধুই তৃণমূল নয়, অতীতে দুর্নীতিগ্রস্ত সিপিএম নেতাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। রামমন্দির আন্দোলনের আদলে স্লোগান তুলে তিনি বলেন, “আমরা আগে বলতাম— ‘ইয়ে তো স্রেফ ঝাঁকি হ্যায়, কাশী-মথুরা বাকি হ্যায়’। আজ বলছি— ‘ফলতা তো পহেলে ঝাঁকি হ্যায়, রেজিনগর-নন্দীগ্রাম বাকি হ্যায়’। তৃণমূল আর কোনো নির্বাচনেই জিততে পারবে না।”
মমতাকে নিশান করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “পিসি বলেন চারশো মামলা, তাও ভয় পায়নি ছেলেটা আমার! ওটা বাঘ না বিড়াল?” শুভেন্দুর দাবি, বাম আমলে ২০১১ সালের পর সমঝোতা হলেও এ বার কোনো ছাড় নেই। শুভেন্দুর কথায়, “সমীর জানা বা সমর মুখোপাধ্যায়ের মতো সৎ ব্যক্তিদের ভয় নেই। কিন্তু বাকিরা কেউ ছাড় পাবেন না।” দুর্নীতিগ্রস্তদের সঙ্গে কী করবেন, সেটাও স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, “ছাড়ব না, জেলে পাঠানো, চার্জশিট পেশ, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং গত ১৫ বছরে তৈরি হওয়া সমস্ত অবৈধ সম্পত্তি নিলাম করব, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করব।” আর সেই কারণেই যে প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু কমিশন গঠন করা হয়েছে, সেটাও জানালেন তিনি।