
কলকাতা: আবাস, ভোটার, জব কার্ডের পর এবার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পেও ভুয়ো উপভোক্তা! এই প্রকল্পের লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নবান্ন সূত্রে খবর, প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার কোনও সন্ধান মিলছে না। সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়া শুরু করতেই সামনে এসেছে এই গরমিল। আয়ুষ্মান ভারত কিংবা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার কার্ড তৈরির প্রক্রিয়ার সময়ই এই অসঙ্গতি নজরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
নবান্ন সূত্রে খবর, আগে যাঁদের নামে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ছিল, তাঁদের অনেকেরই বর্তমান ঠিকানায় খোঁজ মিলছে না। স্বাস্থ্যসাথী থেকে আয়ুষ্মান ভারত কিংবা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনায় কার্ড তৈরির জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাইয়ে যাচ্ছেন সরকারি কর্মীরা। কিন্তু, বহু উপভোক্তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, অডিট করতে গিয়ে প্রচুর ভুয়ো কার্ড এবং ভুয়ো উপভোক্তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। এই অনিয়মের সঙ্গে কিছু সংস্থার যোগসাজশ থাকার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভুয়ো চিকিৎসক, জাল সই, ভুয়ো রিপোর্ট এবং ভুয়ো কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের টাকা লেনদেন হয়েছে। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তার নাম জড়িত থাকতে পারে। আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, স্বাস্থ্যসাথী থেকে যত বেশি কার্ড আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে স্থানান্তরিত হবে, তত বেশি অনিয়ম সামনে আসতে পারে। তাঁর দাবি, ভুয়ো উপভোক্তা, জাল কার্ড এবং নথিতে ভুয়ো সই-সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বলেন, “সবে তদন্তের প্রথম পাতা, আরও বাকি আছে।”