
কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর এবারই হবে প্রথম দুর্গা পূজা (Durga Puja)। আয়োজন শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। তবে, সম্প্রতি পুজো নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (Visva Hindu Parishad) দেওয়া বার্তায় শুরু হয়েছে চর্চা। সূত্রের খবর, পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একটি বৈঠকে আমিষ না খাওয়ার বার্তা দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। শুধু তাই নয়, থিমের পুজোতেও আপত্তি জানিয়েছে ওই সংগঠন। প্রশ্ন ওঠে, পুজোয় কি এবার আমিষ খাওয়া একেবারেই বন্ধ? এবার কি কলকাতায় থিমের প্যান্ডেল দেখা যাবে না? এবার সেই সব প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় মার্গ দর্শক মণ্ডলীর সদস্য নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী বলেন, “থিমে আপত্তি নেই। তবে থিমের নামে ডিমের প্যান্ডেল, জুতোর প্যান্ডেল চলবে না।” তাঁর বক্তব্য, কোনও বিকৃত শিল্পকলা রাখা যাবে না পুজো মণ্ডপে, পুজোর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই, এমন কিছু করা যাবে না। প্রয়োজনে মন্দিরের আদলে প্যান্ডেল বানানো হোক। পরামর্শ ভিএইচপি-র।
থিমের প্যান্ডেলে সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূর্তি বানানো হয় কলকাতার মণ্ডপগুলিতে। তবে তা করতে গিয়ে মূর্তির শালীনতা নষ্ট করা যাবে না। ভিএইচপি-র বক্তব্য, মূর্তি সাবেকি হতেই হবে এমনটা নয়, কিন্তু শালীনতা যেন বজায় থাকে। মাতৃত্বের রূপ যেন বজায় থাকে। নির্গুণানন্দের কথায়, বিধবার মতো শাড়ি পরে দাঁড় করিয়ে দেওয়া যাবে না। অস্ত্র খুলে দুর্গার হাতে অন্য কিছু পরিয়ে দেওয়া যাবে না। আধুনিকতা থাকুক, কিন্তু দুর্গার দশপ্রহরণধারিণী রূপ যেন ক্ষুণ্ণ না হয়।
আমিষ খাবার প্রসঙ্গে ভিএইচপি বলছে, মণ্ডপের বাইরে কোনও খাবারের স্টলে আমিষ খাওয়া যেতে পারে, তবে মণ্ডপে পবিত্রতা বজায় রাখতে হবে। এমন বার্তাই দেওয়া হয়েছিল বৈঠকে। কোথাও যেন এঁটোকাটা না পড়ে থাকে, সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।
একইসঙ্গে ভিএইচপি উল্লেখ করেছে যে অষ্টমী আর নবমীকে শুধুমাত্র মহাষ্টমী ও মহানবমী বলা যায় কারণ এই দুই দিনে মহাপূজা সম্পন্ন হয়। বলিদানও হয়। সেক্ষেত্রে ছাগ বলি বা ফল বলি করতে পারে।