Calcutta High Court: ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা, অভিযোগের সময়টাই ভাবাচ্ছে’, তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় কেন বললেন বিচারপতি?

TMC 440 Crore Account Freeze Case: তখন বিচারপতি জানতে চান, তিনটে অ্যাকাউন্টে মোট কত টাকা রয়েছে? বিচারপতির তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, "অপরাধগুলিই যদি ব্যাঙ্ক অ্য়াকাউন্ট নিয়ে হয়, তাহলে তদন্তে বাধা কোথায়?" তখন বিচারপতি বলেন, তাহলে কি তদন্তের স্বার্থে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দুজনকে স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করা যায়? তিনি নির্দেশ দেন, এই সময়ের মাঝে তদন্তকারী জানাবেন কী কী তথ্য পাওয়া গিয়েছে এই অ্যাকাউন্ট থেকে।

Calcutta High Court: সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা, অভিযোগের সময়টাই ভাবাচ্ছে, তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় কেন বললেন বিচারপতি?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Jul 02, 2026 | 1:09 PM

কলকাতা: অভিযোগ দায়েরের সময়টাই আদালতকে ভাবাচ্ছে। তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ৪৪০ কোটি ফ্রিজ মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। এই ঘটনায় শরৎ বোস রোডের বেসরকারি ব্যাঙ্কের হলফনামা তলব করেছে আদালত। এই মামলায় অন্তবর্তী নির্দেশ দিতে চায় আদালত। তার আগে ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চায় হাইকোর্ট। মঙ্গলবার তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত তথ্য আদালতে পেশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় এদিন কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আইনজীবী ছিলেন কিশোর দত্ত। অভিযোগকারী অর্থাৎ জয়নগরের বিধায়কের হয়ে সওয়াল করেন নীরজ কিষণ পাল। এদিন শুনানির শুরুতেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “আদালতের কাছে এখন এই বিষয়টি অস্পষ্ট ,তখন কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তার গভীরতা দেখা সম্ভব নয়। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে ডেবিট ফ্রিজিং জরুরি কি না সেটা এই আদালত দেখবে। তিনটি একাউন্ট ঘিরে অভিযোগ থাকলে কিছু সময়ের জন্য তো বন্ধ থাকবে? অ্যাকাউন্ট বন্ধ না হলে কীভাবে পদক্ষেপ হবে? এই আদালতের রায় কি তদন্ত গুটিয়ে দেবে?”

তখন কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত সওয়াল করেন, “পুলিশের এই ক্ষমতা নেই। রাজনৈতিক দলের প্রতিদিনের কিছু খরচ রয়েছে। ইলেক্ট্রিক বিল, জলের লাইন ইত্যাদি জরুরি পরিষেবা। সেগুলি কোনওভাবেই বন্ধ করা যায় না। সিজ করা যেতে পারে কিন্তু একেবারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায় না।”

তখন বিচারপতি জানতে চান, তিনটে অ্যাকাউন্টে মোট কত টাকা রয়েছে? বিচারপতির তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “অপরাধগুলিই যদি ব্যাঙ্ক অ্য়াকাউন্ট নিয়ে হয়, তাহলে তদন্তে বাধা কোথায়?” তখন বিচারপতি বলেন, তাহলে কি তদন্তের স্বার্থে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দুজনকে স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করা যায়? তিনি নির্দেশ দেন, এই সময়ের মাঝে তদন্তকারী জানাবেন কী কী তথ্য পাওয়া গিয়েছে এই অ্যাকাউন্ট থেকে।

রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে সওয়াল করেন সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি বলেন, “আমরা তদন্ত করছি। কীভাবে টাকা সাইফন হয়েছে দেখা হচ্ছে।”

তখনই বিচারপতি বলেন, “অভিযোগ দায়েরের সময় আদালতকে ভাবাচ্ছে। ২৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় অভিযোগ দায়ের হল। আর পরদিন সকালেই ব্যাঙ্ক জানাল অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। অথচ অভিযোগ জানানোর আগে ওই অ্যাকাউন্ট নিয়ে নির্দিষ্ট কেন অপরাধের অভিযোগে উঠেনি। তাহলে হঠাৎ পুলিশ অভিযোগের পরে কিসের ভিত্তিতে এত তড়িঘড়ি ফ্রিজ করার জায়গায় চলে গেল।”

কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, “পুলিশ কি চলতি রাজনৈতিক দলকে এভাবে তার লাইফলাইন বন্ধ করে পঙ্গু করতে পারে?”

অভিযোগকারীর আইনজীবী নীরজ কিষণ কল বলেন, “এই মামলার কি আদৌ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে? ৫ জুন আপডেট দেখলে বোঝা যাবে কয়েকজন অফিস বেয়ারা নিয়োগ করেছে সেটা কি করা যায়? কে এই পার্টি কে রিপ্রেসেন্ট করছে।” বেআইনি ফান্ড নিয়ে এই অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে বলে আদালতে দাবি করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, সেক্ষেত্রে পুলিশ যা করছে সেটা কি ভুল?

তখন তুষার মেহতা বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের দুজন প্রেসিডেন্ট দাবি করছেন, তারাই এই দলের দাবিদার। কে ব্যবহার করবে এই অ্যাকাউন্ট?” সেক্ষেত্রে তিনি আদালতের কাছে আর্জি জানান, এখন কোনও অ্যাকাউন্টই যাতে ব্যবহার করতে না দেওয়া হয়। এরপরই ব্যাঙ্কের কাছে হলফনামা তলব করা হয়েছে।

Follow Us