
কলকাতা: ভোটে ভরাডুবি হতেই কোন্দল প্রকট হচ্ছে তৃণমূলে। টিকিট পেতে টাকা চাওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন কেউ। আবার ভোটে হারের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন কেউ। ঋজু দত্ত, কোহিনূর মজুমদারদের মতো মুখপাত্রদের সাসপেন্ড করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে ঘাসফুল শিবির। কিন্তু, কোন্দল যে থামানো যাচ্ছে না, আরও একবার স্পষ্ট হল। এবার তৃণমূলের উত্তর কলকাতার অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কাউন্সিলর, নেতারা বাদানুবাদে জড়ালেন। আর সেই বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়লেন সাংসদ তথা তৃণমূলের উত্তর কলকাতার চেয়ারপার্সন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সামনে চলে এসেছে। আর তাতেই অস্বস্তি বাড়ল ঘাসফুল শিবিরের।
তৃণমূলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বাদানুবাদ-
বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে মুখ খুবড়ে পড়েছে তৃণমূল। কলকাতাতেও একাধিক আসনে হেরেছে তারা। ভোটে হারার পর একাধিক জায়গায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। আবার ভোটে হারার জন্য অভিষেকের বিরুদ্ধেও অনেকে মুখ খুলছেন। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের উত্তর কলকাতার অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন কলকাতা পৌরনিগমের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের উত্তর কলকাতার চেয়ারপার্সন সুদীপকে নিশানা করে তিনি বলেন, “সুদীপদা, আপনি উত্তর কলকাতার অঘোষিত সম্রাট। আপনার তো উচিত ঘরছাড়াদের ঘরে ঢোকানো। সেই জায়গায় আপনি তো নিজেই ঘরে ঢুকে আছেন। অনেক দিন ধরে পদ আঁকড়ে বসে আছেন। অনেক হয়েছে, এ বার ছাড়ুন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।’’
১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের এই মেসেজের পর পাল্টা আসরে নামের সুদীপ ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলররা। বিধানসভা ভোটে শ্যামপুকুরের পরাজিত প্রার্থী শশী পাঁজার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার জবাব দেন কাউন্সিলর সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এই তোপ দাগাদাগির মধ্যেই একটি মেসেজ লেখেন স্বয়ং সুদীপ। একজনকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘‘এদের একটাই উত্তর। হাতি চলে বাজার, কুত্তা ভোকে হাজার। জবাব দিও না। আমি দিয়ে দেব।’’ তখন সুব্রত পাল্টা লেখেন, ‘‘দাদা, আমি দলের সৈনিক। ‘কুত্তা’ নই। আমরা দলের সৈনিক আর আপনি আমারই চেয়ারম্যান। আমি তো আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করেছি।’’ এরই মধ্যে কেউ একজন লেখেন, দলের মধ্যে এখন এই দলাদলি ঠিক নয়।
কোহিনূর, ঋজুরা যখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তোপ দেগে চলেছেন, তখন দলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নেতাদের এই তোপ দাগাদাগির চ্যাট প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তি বেড়েছে তৃণমূলের। এখন এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।