
কলকাতা: হাতে সাংসদ রয়েছেন গুটি কয়েক! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা হচ্ছে। তাঁর দলের হয়ে জিতে আসা কুড়ি জন সাংসদ ইতিমধ্যেই বিক্ষুব্ধ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। এনসিপিআই-তে (NCPI) মিশে গিয়ে এনডিএ-র শরিক হয়েছেন। কিন্তু এত সবের পরও দেখা গেল, মঙ্গলবার সংসদে যখন সেই বিক্ষুব্ধদের তালিকায় নাম লেখানো সাংসদ শর্মিলা সরকার নিজের বক্তব্য পেশ করছিলেন, সেই সময় তাঁকে তৃণমূল সাংসদ হিসাবেই উল্লেখ করা হয়। যা দেখে খোঁচা দিতে ছাড়েননি কালীঘাটপন্থী শিবিরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
মঙ্গলবার বিধানসভায় পেপার লিক বন্ধের বিল নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেখানেই বক্তব্য রাখতে ওঠেন পূর্ব বর্ধমানের সাংসদ শর্মিলা সরকার। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক সাংসদ প্রথমবার তৃণমূলের হয়ে জিতে সংসদে গিয়েছিলেন। তৃণমূলের যে সময় ভরা বাজার, সেই সময়ই একদম আনকোরা এই নতুন মুখকে দাঁড় করান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই লোকসভা কেন্দ্রে দু’দুবার দাঁড়িয়ে দলকে জেতান সুনীল মণ্ডল। তবে চব্বিশের লোকসভা ভোটে তাঁকে টিকিট না দিয়ে নতুন মুখ শর্মিলার উপরই ভরসা রেখেছিলেন সুপ্রিমো মমতা। শর্মিলাও জিতলেন। খুশিও করেছিলেন সুপ্রিমোকে।
তবে সব গণ্ডগোল হয়ে গেল ছাব্বিশে তৃণমূল ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই। বারাসতের সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একে একে সাংসদ তৃণমূল ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর তোপ দেগে বেরিয়ে যেতে শুরু করেন দল ছেড়ে। সেই তালিকায় নাম লেখান শর্মিলাও। এখন তো আবার জল্পনা ছড়িয়েছে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শর্মিলা হতে পারেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও।
অথচ সেই শর্মিলাই আজ যখন বিল নিয়ে বক্তব্য রাখতে উঠলেন তখন দেখা গেল তাঁর নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে AITC। আর তা দেখা মাত্রই খোঁচা দেওয়ার জন্য লুফে নিয়েছেন মহুয়া মৈত্র। ছবি তুলে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃষ্ণনগরের সাংসদ লিখেছেন, “ও মা -সে কি ? এতো বেইমানি গদ্দারির পরেও সেই AITC-টা নামের পাশে রইল? বিজেপি B টিম লিখে নিন প্লিজ…।”
প্রসঙ্গত, কুড়ি জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যেতেই বারেবারে তাঁদের গদ্দার বলে কটাক্ষ করেছে কালীঘাটপন্থী সাংসদরা। এ দিনও তার অন্যথা হল না।