
সুজয় পাল
কলকাতা: বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে গতকাল হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছিল সিআইডি। ওই তল্লাশি নিয়ে এবার সিআইডির বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল তৃণমূল। বুধবার হাইকোর্টে মামলার আবেদন করেন তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত। মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
গতকাল কালীঘাটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তল্লাশিতে গিয়ে ঢুকতে পারেননি সিআইডি আধিকারিকরা। পরে আবার তল্লাশি চালানো হয়। ওই তল্লাশি নিয়েই এদিন হাইকোর্টে কিশোর দত্ত নিজের আবেদনে বলেন, ওয়ারেন্ট ছাড়া দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে সিআইডি। কোনও সাক্ষী ছিলেন না। স্ক্যান করে দলীয় ডকুমেন্টস নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানান তিনি। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
সই জালকাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভাগ্য’ নিয়ে জল্পনা-
বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে গতকালও সিআইডির তলব এড়িয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে তৃতীয়বার। আবার সিআইডির নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। সমন প্রত্যাহার ও রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়েছেন। আগামিকাল বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে অভিষেকের মামলার শুনানি হবে।
ওয়াকিবহাল মহল বলছে, হাইকোর্ট রক্ষাকবচ না দিলে বিপদ বাড়তে পারে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। তিনবার গরহাজিরায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠছে। হাজিরা না দেওয়ার কারণ যুক্তি-গ্রাহ্য নয় তদন্তকারীদের কাছে। সিআইডি মনে করছে, হাজিরা এড়াতেই কৌশলী পদক্ষেপ করছেন অভিষেক। অভিষেককে চতুর্থ নোটিস না পাঠিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে সিআইডি। অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদনের করতে পারে তারা। ফলে আগামিকাল অভিষেকের মামলায় হাইকোর্ট কী নির্দেশ দেয়, সেদিকে তাকিয়ে সবাই। সবমিলিয়ে বিধায়কদের সই জালকাণ্ড এবং সিআইডি-র তল্লাশি নিয়ে চাপানউতোর বাড়ছে।