
কলকাতা: তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। মমতাপন্থী তৃণমূল ও ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলকে আলাদা আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর নানা প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূলের নাম ও প্রতীকের কী হতে পারে? তৃণমূলের টিকিটে যাঁরা লোকসভা ও বিধানসভায় জিতেছেন, এবার তাঁরা কোথায় যাবেন? ইতিমধ্যে তৃণমূলের যেসব সাংসদ ও বিধায়কের পদ খারিজের আবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়েছে, সেই আবেদনের কী হবে? টিভি৯ বাংলাকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত।
তৃণমূলের দুই শিবিরকে আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত বলেন, “সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিবাদমান যে দুটি গোষ্ঠী, তাদের আবেদনের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এটা কিন্তু চূড়ান্ত রায় নয়। এই নির্দেশ যতক্ষণ কার্যকর থাকবে, ততক্ষণ কেউ নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। আমাদের রিপ্রেজেন্টেশন অব পিপলস অ্যাক্ট রয়েছে। তাতে নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তা এখনও বাকি রয়েছে। দুই পক্ষের শুনানির পর সেই রায় আসবে। সেখানে এক পক্ষ প্রতীক ও নাম পেতে পারে। কিংবা নাম ও প্রতীকটাই সম্পূর্ণভাবে বাতিল হতে পারে।”
তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক ও সাংসদদের কী হবে?
তৃণমূলের দুই শিবির এখন আলাদা নাম ও প্রতীক পাওয়ায়, দলের টিকিটে জয়ী সাংসদ, বিধায়কদের কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বলেন, “একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তৃণমূলের টিকিটে জয়ী এখন যাঁরা বিধায়ক কিংবা সাংসদ রয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? তাঁরা কিন্তু পদ হারাবেন না। টার্ম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাংসদ, বিধায়ক থাকবেন। একটা অবশ্য সম্ভাবনা আসতে পারে, তাঁরা এই দুটো গোষ্ঠীর কার সঙ্গে থাকবেন, সেটা ঠিক করতে হতে পারে।”
যে সাংসদ, বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা পড়েছে, তাঁদের কী হবে?
তৃণমূলের দুই শিবির আলাদা নাম ও প্রতীক পাওয়ার পর এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত বলেন, “দুই শিবিরের আলাদা নাম ও প্রতীক পাওয়ার সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। আদালতে যেমন মামলা চলছে, তা চলবে।” হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে স্পষ্ট, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের শুনানি চলবে।
কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কী আদালতে যাওয়া যায়?
হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বলেন, “কোনও পক্ষ কমিশনের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে আদালতে যেতে পারে। কোনও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেই আদালত হস্তক্ষেপ করে। না হলে কোনও হস্তক্ষেপ করে না।”