
কলকাতা: একসময় বীরভূমে তৃণমূলের সব সিদ্ধান্ত কার্যত নিতেন তিনি। কিন্তু, গরু পাচার মামলায় ধরা পড়ে তিনি জেলে যাওয়ার পরই পরিস্থিতি বদলায়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে জেলায় ফিরলেও এখন দলে আর সেই প্রতাপ নেই অনুব্রত মণ্ডলের। বর্তমানে বীরভূমে তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক তিনি। কিন্তু, তাঁর সঙ্গে জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের দ্বন্দ্বের কথা প্রায়ই শোনা যায়। এবার এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েই কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বীরভূমের তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে একসঙ্গে চলার বার্তা দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমে ১১টি আসনের সবকটিতে জয়ের টার্গেটও বেঁধে দিলেন।
এদিন ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বীরভূমের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক। এই বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীও। সেখানে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা উঠে আসে। কারও নাম না নিলেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন অভিষেক। এদিন বীরভূমে তৃণমূলের কোর কমিটির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। কোনও একক ব্যক্তি নয়। সমবেত নেতৃত্বের উপর আস্থা প্রকাশ করেন। বৈঠকে একাধিকবার কোর কমিটির নাম নিতে দেখা যায় তাঁকে।
এদিনের বৈঠকে শাসকদলের রামপুরহাট টাউন ব্লকের সভাপতির নাম চূড়ান্ত করা যায়নি। একাধিক নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্লক সভাপতি নির্বাচনের দায়িত্ব বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এদিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সিউড়ির ব্লক-২’র সভাপতি কিংবা তিন জনের কোর কমিটি তৈরি করে দেবে রাজ্য কমিটি।
অভিষেকের সঙ্গে বৈঠকের পর বীরভূমে দলের নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করলেন অনুব্রতর বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত কাজল শেখ। তিনি বলেন, “বীরভূমে তৃণমূল নেতাদের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য নেই। তৃণমূল কংগ্রেস একটা বড় পরিবার। একটা বড় পরিবারে বাবার সঙ্গে ছেলের, মায়ের সঙ্গে ছেলের, বোনের সঙ্গে ভাইয়ের দ্বন্দ্ব হতেই পারে। কিন্তু, সেটাকে মেটানোর জন্য দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। আমরা একসঙ্গে চলব। ছাব্বিশের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে প্রার্থী করবেন, তাঁকে আমরা জেতাব।” এরপরই তাঁর বক্তব্য, “আমি কোথাও বেফাঁস মন্তব্য করি না। করব না। যদি কেউ বেফাঁস মন্তব্য করেন, সেই প্রশ্ন তাঁকে করা উচিত বলে আমি মনে করি।” অনুব্রত অবশ্য এই নিয়ে এদিন কোনও মন্তব্য করেননি।