
কলকাতা: হাওড়া থেকে দিঘা যেতে হলে কেউ হাতে বরাবরই দু’টি এক্সপ্রেস। একটি তাম্রলিপ্ত অন্যটি কান্ডারি এক্সপ্রেস। কিন্তু লেট দুর্নাম দুই ট্রেনের। এবার সেই দুর্নাম ঘোচাতেই উদ্যোগী রেল। অগস্টের শেষ থেকেই বদলে যেতে চলেছে ছবিটা। ১২৮৫৭/১২৮৫৮ তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস এবং ২২৮৯৭/২২৮৯৮ কান্ডারি এক্সপ্রেসের কোচের বিন্যাসেই আসছে আমূল পরিবর্তন। রেল সূত্রে খবর মূলত ‘লিঙ্ক রেক’ বা রেক শেয়ারিংয়ের সমস্যার কারণে এই ট্রেন দু’টি প্রায়ই দেরিতে চলতো। কিন্তু নতুন আধুনিক এই ব্যবস্থার হাত ধরে এই সমস্যা সম্পূর্ণ দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এতদিন তাম্রলিপ্ত ও কান্ডারি এক্সপ্রেসের মধ্যে যেভাবে ট্রেনের বগি অদলবদল হতো, তাতে একটি ট্রেন কোনও কারণে লেট করলে পেছনের ট্রেনটিরও রওনা দিতে অনেক দেরি হয়ে যেত। কিন্তু নতুন এই আধুনিক পরিকল্পনায় ট্রেন দুটির বগির বিন্যাস সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। সংশোধিত তালিকা বলছে, এবার ট্রেনগুলিতে থাকবে ৪টি জেনারেল কোচ, ৫টি নন-এসি চেয়ার কার। পাশাপাশি যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে যুক্ত করা হচ্ছে ১টি এসি চেয়ার কার, ২টি স্লিপার ক্লাস এবং ১টি এসি থ্রি-টায়ার কোচ। শুধু তাই নয়, সাধ্যের মধ্যে আধুনিক ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এই প্রথমবার ট্রেন দুটিতে ২টি বিশেষ এসি থ্রি-টায়ার ইকোনমি কোচ থাকছে।
মাত্র ৩-৪ ঘণ্টার এই জার্নিতে আগে কেবল বসার ব্যবস্থা থাকলেও, নতুন বিন্যাসে স্লিপার ও থ্রি-টায়ার কোচ থাকায় প্রবীণ নাগরিক, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীরা শুয়ে বা সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিয়ে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে কম ভাড়ায় এসি ইকোনমি কোচের সুবিধা মধ্যবিত্তের দিঘা ভ্রমণকে আরও পকেট-ফ্রেন্ডলি করে তুলবে। একইসঙ্গে যাত্রীদের খাবারের চিন্তাও এবার দূর করতে চলেছে রেল। থাকছে ১টি সুসজ্জিত এসি প্যান্ট্রি কার। ফলে যাত্রাপথেই মিলবে একদম তাজা, গরম এবং স্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয়। ২৭ অগস্ট থেকেই নতুন সজ্জায় যাত্রা শুরু করতে চলেছে ট্রেনগুলি।