
ভোটের ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাংলার মসনদে বসতে গেলে বাঙালির অস্মিতা আর কৃষ্টিকেই ঢাল করতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই আগামী পঁচিশে বৈশাখ, কবিগুরুর জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। যেখানে রাজনীতির গাম্ভীর্যের চেয়েও বেশি করে ধরা দেবে বাঙালির চিরচেনা সংস্কৃতি আর রসনা।
এবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নিছকই কোনও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একে এক সাংস্কৃতিক মহোৎসবের রূপ দিতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনটিকে বেছে নেওয়া তারই ইঙ্গিত। জানা গিয়েছে, নবনির্বাচিত বিধায়করা ওইদিন চিরাচরিত বাঙালি পোশাক ধুতি ও পাঞ্জাবি পরেই মঞ্চে হাজির হবেন। অনুষ্ঠানের সূচনা হবে রবীন্দ্রসংগীতের সুরের মূর্ছনায়, যা বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পাশাপাশি এক শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি করবে।
নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঝালমুড়ি খাওয়ার দৃশ্য হোক বা অমিত শাহের মুখে বর্ধমানের মিষ্টির প্রশংসা বঙ্গ রাজনীতিতে খাবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সেই ধারা বজায় রেখেই শপথের মেনুতে থাকছে এলাহি আয়োজন, রয়েছে ঝালমুড়ি, জিআই ট্যাগ প্রাপ্ত বর্ধমানের বিখ্যাত সীতাভোগ এবং মিহিদানা। নির্বাচনী প্রচারে অমিত শাহ কথা দিয়েছিলেন, ফল ঘোষণার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সীতাভোগ খাওয়াবেন। সূত্রের খবর, শপথের মঞ্চে সেই দৃশ্য দেখা যেতে পারে। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতির পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বাংলার বিশিষ্ট সমাজসেবী, সাহিত্যিক, ক্রীড়াবিদ এবং রূপোলি পর্দার তারকাদের। উপস্থিত থাকবেন বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরতে পরতে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া থাকবে। জানা গিয়েছে, ধুতি পাঞ্জাবিতে দেখা যাবে অনেককেই। রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজবে।
তবে সবার নজর এখন একটিই প্রশ্নের দিকে কে হচ্ছেন সেই ‘ভূমিপুত্র’ মুখ্যমন্ত্রী? শুক্রবারের বৈঠকেই সেই নাম চূড়ান্ত করে সিলমোহর দেওয়ার কথা শাহের। একদিকে রবীন্দ্রসংগীত, অন্যদিকে ঝালমুড়ি আর সীতাভোগের স্বাদ— সব মিলিয়ে এক নতুন ধরণের শপথ গ্রহণ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে তিলোত্তমা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাঙালির আবেগকে মিশিয়ে দিয়েই নতুন এই শাসন অধ্যায় শুরু করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।