
কলকাতা: পালাবদলের পর বাংলায় আসছে শিল্পের জোয়ার। বিনিয়োগের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলার শিল্পে পরিবর্তন হচ্ছে। এবার জমির কাগজ অ্যালটমেন্ট লেটার শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১১টি শিল্পতালুকে ৩৩টি শিল্প সংস্থাকে জমি বিতরণ করা হল। ৬০ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের আশা।
এ দিন মিলনমেলা প্রাঙ্গণ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আসলে পশ্চিমবঙ্গে কীসের অভাব ছিল জানেন? সদিচ্ছার অভাব ছিল। অ্যালটমেন্ট লেটার পাওয়ার পরই কাজ শুরু করুন, যাতে মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে উদ্বোধন করতে পারেন। ছেলেমেয়েরা শুধু চাকরি করবে না, উদ্যোগপতি হবে। পশ্চিমবঙ্গ আগামিদিনে ঘুরে দাঁড়াবে। আত্মনির্ভর হবে পশ্চিমবঙ্গ।”
মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “পশ্চিমবঙ্গে সংস্কার ফিরে এসেছে। ২৬ তারিখের আগে শুরু করুন কাজ, কারণ তারপর পিতৃপক্ষ শুরু হচ্ছে। জুট বা পাট শিল্প শুরু হয়েছিল ব্যারাকপুর থেকে। টিটাগড় থেকে আসানসোল পর্যন্ত, এরা শিল্পাঞ্চলকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যখন সরকার গঠন হয়েছিল, তারা প্রথমেই এসে বলল, জমি দেওয়া যাবে না। এটা কোনও জমি পলিসি হতে পারে না। শিল্প আকাশে হয় না, জলে হয় না। জলে বন্দর হতে পারে। কিন্তু শিল্পের জন্য জমির দরকার।”
শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে বললেন, “কমিউনিস্টরা শুধু হরতাল স্ট্রাইক করে সব শিল্প ধ্বংস করেছে। বুদ্ধবাবু চেয়েছিলেন শিল্প, কিন্তু তার পার্টি পলিসি খুব নেগেটিভ ছিল। হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি নিয়ে কেন ২০০৬ সালে নোটিস ইস্যু করা হয়েছিল? এর কোনও নিয়ম নেই। প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কোনও অধিকার নেই এই জমি অধিগ্রহণের নোটিস ইস্যু করার। দেখেছেন কেমন জমি পলিসি ছিল। তারপরে মমতার সরকার জমি দেয়নি। এটা কোনও শিল্প নীতি নয়। শিল্পপতিদের বলেছিলেন যাও জমি খুঁজে নাও আমরা দেবো না।”
নতুন সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমাদের সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করবে না, পুলিশের অপব্যবহার করবে না। ডাবল ইঞ্জিন সরকার, আসুন এখানে বিনিয়োগ করুন। এখানে আর তোলাবাজি হবে না। কেন্দ্রের কড়া নির্দেশ রয়েছে। হেল্পলাইন নম্বর চালু আছে। কোনও সমস্যা হলে এখানে জানান। আমাদের সচিবালয় ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “অর্থনৈতিক অবস্থা রাজ্যের খারাপ। যত বিনিয়োগ করবেন, আপনারা তার উপর ইনসেনটিভ পাবেন। যত কর্মসংস্থান করবেন, তার উপর ইনসেনটিভ পাবেন। পুজোর আগেই নতুন জমি নীতি ঘোষণা হবে। ১০০ কোটির বিনিয়োগ করলে কোথাও যাবেন না। আমরা সব আপনাদের দেব। একসঙ্গে আমরা কাজ করব।নিরাপত্তা দেব। প্লিজ আসুন।”
তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “আগের সরকারে আমি ছিলাম কিছুদিন। খুব নেগেটিভ। ভারত বলেছিল, আমরা আত্মনির্ভর হব। বাংলা বলছিল, আমি শুধু ভাতা নেব। আগের সরকার শুধু নিজেদের লোকদের দেখত। এই সরকার ইউনাইটেড। এসব এখানে চলবে না।”
তিনি আরও বলেন, “ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইনচার্জ বলেছিলেন, জুনপুটে মিসাইল কেন্দ্র হবে। আমি লেটার পাঠিয়ে দিয়েছি। আপনাদের কেউ ডিস্টার্ব করলে, আমাদের জানান। আপনাদের সঙ্গে মাসে দুবার ওয়ান টু ওয়ান মিট করব। আদানি হাসপাতালে আগামিকাল ভূমিপুজো। সবাই আসবেন। জিন্দাব, হর্ষ নেওটিয়ারা সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন আমার সঙ্গে। অনেক খনিজ সম্পদ আছে আমাদের, সুন্দরবন, মা গঙ্গা আছে, দার্জিলিং আছে।”