
কলকাতা: রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গির(Dengue In West Bengal) প্রকোপ আপাতত নিয়ন্ত্রণে। তবে এখনই স্বস্তির কোনও কারণ নেই। বরং আগামী দুই মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে সবথেকে বেশি ঝুঁকি থাকে। নবান্নের তরফে এমনই আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই, আগামী দুই মাস নিয়ে ঝুঁকি নিতে নারাজ নবান্ন (Nabanna)। অক্টোবর ও নভেম্বরকে ‘হাই-রিস্ক পিরিয়ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগারওয়াল (Manoj Kumar Agarwal) ।
সোমবার নবান্ন থেকে রাজ্যের সব জেলাশাসকের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে বৈঠক করেন মুখ্য সচিব। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ডেঙ্গি মোকাবিলায় কোনও ধরনের শিথিলতা বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আগামী দু’মাসে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই স্বাস্থ্য, পুর, পঞ্চায়েত-সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরকে মাঠে নেমে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু রিপোর্ট সংগ্রহ করলেই চলবে না, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোথাও যাতে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা ধ্বংসের কাজ এবং সচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, বর্ষা শেষের পর থেকেই সাধারণত ডেঙ্গির সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দিচ্ছে নবান্ন। মুখ্য সচিবের বার্তা, ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি দফতরকে সমন্বিত ভাবে কাজ করতে হবে এবং কোনও স্তরেই নজরদারির ঘাটতি রাখা যাবে না। অর্থাৎ ডেঙ্গি নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট যে সংক্রমণ কমেছে বলেই আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। বরং বিপদের সময় সামনে রেখে এখন থেকেই প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে হবে। জেলা প্রশাসনকে এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অগস্ট মাসের হিসেব অনুযায়ী, রাজ্য়ের ২০২৬ সালে ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছে ১০ জন আক্রান্তের। তবে ডেথ রিভিউ কমিটির মতে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। বাকি ৩ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হলেও মৃত্যুর কারণ অন্য, ডেঙ্গি নয়। সেখানে ২০২৫ সালে মৃত্যু হয়েছিল ১৯ জনের আর ২০২৪-এ মৃত্যু হয়েছিল ৩১ জনের।