
কলকাতা: নিয়োগের তোড়জোড় এবার অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের।
নিয়োগের জন্য প্রস্তুতি রাজ্য সরকারের। ওবিসি মামলার রায়ের পর কোন কোন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে রয়েছে, নিয়োগকারী সংস্থার থেকে ৭ দিনের মধ্যে তথ্য তলব করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগেই ওবিসি মামলা থেকে আগেই সরে দাঁড়িয়েছে রাজ্য। এবার শিক্ষা দফতরের অধীনস্থ নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইল অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর।
কলেজ সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, স্বাস্থ্য নিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান, কো-অপারেটিভ সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান, যৌথ প্রবেশিকা পরীক্ষার বোর্ডের চেয়ারম্যান-সহ একাধিক ক্ষেত্রে চিঠি গিয়েছে।
চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের ২২ মে ২০২৪-এর রায়ের আগে শুরু হওয়া সমস্ত নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য। পাশাপাশি, ১০ জুন ২০২৫ থেকে ১৮ মে ২০২৬-এর মধ্যে শুরু হওয়া নিয়োগ, ১৮ মে ২০২৬-এর পরে শুরু হওয়া নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চকে জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভা এই মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে, রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনও তাদের পৃথক আপিলও প্রত্যাহার করেছে। কমিশনের তরফে আইনজীবী কুণাল চট্টোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা সুপ্রিম কোর্টকে জানান। মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে এই মামলায় অন্য কোনও ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ চাইলে তাদের নিজস্ব মামলা দায়ের করতে পারবে বলে এদিন জানিয়েছে প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ।
২০১০ সালের পর ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭৭টি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। যে ৭৭টি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি বাতিল করে হাইকোর্ট, তার মধ্যে ৭৫টি মুসলিম সম্প্রদায়। ২০২৪ সালের মে মাসের হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকার। কিন্তু, বিজেপি ক্ষমতায় এসেই জানিয়ে দেয়, ওবিসি তালিকা নিয়ে পূর্বতন সরকারের মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করবে তারা। সেইমতো এদিন মামলা প্রত্যাহার করে নিল বর্তমান রাজ্য সরকার।