
কলকাতা: কেন তিনি আচমকা পদত্যাগ করলেন? রাজ্যপালের পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফার কারণ নিয়ে জল্পনা থামছে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বোসের পদত্যাগ নিয়ে মন্তব্য করছেন। কলকাতায় এসে ইস্তফার কারণ নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না স্বয়ং আনন্দ বোস। সোমবারও তাঁর ইস্তফার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠে। চাপের মুখে ইস্তফা কি না জানতে চাওয়ায়, বাংলার সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল হেঁয়ালি রেখে বললেন, চিকিৎসক বলেছেন তাঁর প্রেসার নর্মাল। এদিন তিনি আরও জানালেন, বাংলা ছেড়ে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দেখা করবেন।
এদিন ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয় সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। শনিবার মেট্রো চ্যানেলে ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “সিভি আনন্দ বোসকে কেন সরানো হয়েছে আমি সব জানি। কিন্তু বলব না। ভয় দেখানো হয়েছে, থ্রেট করা হয়েছে। একটু আমি বলতে পারি।” এদিন প্রাক্তন রাজ্যপালের কাছে জানতে চাওয়া হয়, রাজনৈতিক চাপে কি তিনি পদত্যাগ করেছেন? হেঁয়ালি রেখে আনন্দ বোস বলেন, “আমি চাপে পড়ে পদত্যাগ করেছি কি না, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। তবে আমার প্রেসার সম্পর্কে জানতে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। উনি জানিয়েছেন, আমার প্রেসার নর্মাল।”
বাংলায় রাজ্যপাল হয়ে আসার পর রাজ্যের মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে আনন্দ বোসকে। বাংলায় বই লেখার ইচ্ছে প্রকাশও করেছিলেন। বাংলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে এদিন তিনি বলেন, “বাংলার মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আমি বারবার বাংলায় ফিরে আসব। বাংলার মানুষের সঙ্গে কথা বলব। দেখা করব। কেরলের সঙ্গে বাংলাকেও আমি নিজের ঘর মনে করি। আমি বাংলাকে ভালোবাসি।”
রবিবার বাংলায় এলেও লোকভবনে থাকছেন না আনন্দ বোস। গতকাল প্রাক্তন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার পর তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “অভিমানে লোকভবনে যাননি প্রাক্তন রাজ্যপাল।” এই নিয়ে এদিন আনন্দ বোস বলেন, “যতদিন রাজ্যপালের পদে ছিলাম, লোকভবনে থাকতাম। আমি মানুষের মাঝে মানুষের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করি। তাই অন্য জায়গায় আছি।”
বাংলায় রাজ্যপাল হয়ে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু, বিভিন্ন ইস্যুতে লোকভবনের সঙ্গে নবান্নের দূরত্ব বাড়ে। আনন্দ বোসকে নিশানা করেন মমতা। এদিন প্রাক্তন রাজ্যপালকে প্রশ্ন করা হয়, রাজ্য ছাড়ার আগে তিনি কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করবেন? উত্তরে আনন্দ বোস বলেন, “আমি যতদিন এখানে দায়িত্বে ছিলাম, প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। আমি প্রশাসনিক সকলের সঙ্গে দেখা করব এই বাংলা ছাড়ার আগে। তার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রয়েছেন।”
কুণাল ঘোষের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নিয়ে প্রাক্তন রাজ্যপাল বলেন, “অনেকেই আমার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। কথা বলছেন। আমি ভালো স্মৃতি নিয়ে বাংলা থেকে যেতে চাই।”