
কলকাতা: হঠাৎ যেন রাজ্যে একেবারে ‘সেলিব্রেটি’ তকমা পেয়ে গিয়েছে পচা ডিম। কিন্তু জানেন ডিমের গুণ তো প্রচুর, কিন্তু পচা ডিমও একেবারে গুণের বিচারে ‘পচা’ তা নয়। বেশ কিছু দারুণ এবং পরিবেশবান্ধব কাজে লাগানো যেতে পারে এই পচা ডিম। কটূ গন্ধ থাকলেও, বাগান বা গাছের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এর জুড়ি মেলা ভার। কটূ গন্ধ একটু সহ্য করে নিলেই বাগন হবে সবুজে ভরপুর।
সোজা কথায় পচা ডিম একেবারে উচ্চমানের সার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। গাছের জন্য চমৎকার জৈব সার হতে পারে এই পচা ডিম। ডিমের খোসায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ভিতরের অংশে প্রোটিন ও নাইট্রোজেন থাকে, যা মাটির পুষ্টিগুণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টমেটো, বেগুন বা লঙ্কা গাছের জন্য দারুণ কাজ করে। তবে উৎকট গন্ধ এড়াতে, কুকুর-বিড়ালের হাত থেকে বাঁচাতে ডিমগুলিকে মাটির বেশ কিছুটা গভীরে পুঁতে দেওয়া উচিত।
আপনার বাড়িতে যদি কম্পোস্ট বিন বা জৈব সার তৈরির নির্দিষ্ট জায়গা থাকে, তবে সেখানে নির্দ্বিধায় পচা ডিম ফেলে দিতে পারেন। এটি অন্যান্য পচা সবজি বা ফলের খোসা, অন্য়ান্য পচা জিনিসের সঙ্গে মিশে খুব ভালো মানের কম্পোস্ট সার তৈরি করতে সাহায্য করে।
পচা ডিমের তীব্র গন্ধ মানে এতে যে হাইড্রোজেন সালফাইড থাকে তা অনেক প্রাণীই সহ্য করতে পারে না। বাগান থেকে ইঁদুর বা অন্যান্য বন্য প্রাণী দূরে রাখতে পচা ডিম জলের সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে বাগানের সীমানায় স্প্রে করতে পারেন। এটি প্রাকৃতিক ‘পেস্ট রিপেলেন্ট’ হিসেবে কাজ করে।
তবে এটাও মনে রাখতে হবে পচা ডিমে নানা রকম ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। তাই বাগানের কাজে এগুলো ব্যবহার করার পর অবশ্যই খুব ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেওয়া দরকার। কোনওভাবেই যাতে এগুলি গৃহপালিত পশুদের খাবারের সঙ্গে মিশে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। নাহলেই আবার অন্য বিপদ!