
কলকাতা: পুজোর বিধি বেঁধে দিয়েছে শুভেন্দুর সরকার। একদিকে যেমন উৎসবের নামে কোনও প্রকার অতিরিক্ত কিছু নয়, আবার অন্যদিকে পুজোর আবেগে কোনও রকম কার্পন্যও নয়। পুজোর জন্য ক্লাবগুলিকে ১ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেও মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, যে সকল ক্লাব বড় পুজো করে তারা যেন এই অনুদান না নেয়। আর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণার পর একে একে সকল ক্লাব জানাতে শুরু করেছে কে কে নিচ্ছে না অনুদান।
বিধায়ক সজল ঘোষের পুজো সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার। তিনি এই পুজোর দায়িত্বে থাকেন। সজল জানিয়ে দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়, “আগেও অনুদান নেওয়া হয়নি, এখনও নেব না।” অপর দিকে, সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত চোরবাগান সর্বজনীনেরও। এবার মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে অনুদান নেবে না টাল প্রত্যয় ক্লাব, সন্তোষপুর লেক পল্লী। পাশাপাশি সরকারি অনুদান ছাড়াই পুজো করবে ফুলবাগান সর্বজনীন বলেও জানা যাচ্ছে।
অন্য়দিকে, রাজডাঙা নবদয় সঙ্ঘের চেয়ারপার্সন কেয়া ঘোষ বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ছোট-বড় পুজোর পাশে দাঁড়ানো। বিশেষ করে বিদ্যুতের বিলে একশো শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এটা অনেক বড় কাজ। আর রাজডাঙা এবার অন্যরকম ভাবে ভেবেছে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর অর্থমন্ত্রীর তহবিলে অর্থরাশি দেব।”
পুজো অনুদান নিয়ে কী বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী?
গ্রামীণ এলাকার অনেকেই সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে গিয়েছে। মোটামুটি একটা ভালো পুজো শহরে করতে গেলে ১০ লক্ষের নীচে হয় না। গ্রামেও ৪-৫ লক্ষের কমে হয় না। পুজো কমটিগুলোকে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, “আপনারা প্রচুর বিজ্ঞাপন নিন। কিন্তু যেহেতু আপনারা একটা আশা-পরম্পরা পেয়ে এসেছেন। আমরা আগেই বলে এসেছিলাম, ছোট বাজেটের পুজো কমিটিগুলোকে অনুদান দেব, বড় বাজেটের পুজোগুলোকে দেব না।” তিনি জানান, আমি মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাই না। আমি বড় বাজেটের পুজোগুলোকে বলতে চাই, সরকারের অর্থনৈতিক সাহায্য নেবেন না। যাঁরা নেবেন না, তাঁদের বিশেষ ধন্যবাদ। যাঁদের এই টাকা না হলে পুজো করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য সরকার ১ লক্ষ টাকা করে দেবে।”