
কলকাতা: ‘কালীকে তুললে সব বেরিয়ে যাবে।’ তারাতলার ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মুখে উঠে আসে কালীর নাম। আর সেই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই কালীকে আটক করে পুলিশ। কালী অর্থাৎ কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalicharan Banerjee)। কোনও নেতা নন, মন্ত্রী নন, একজন সরকারি আধিকারিক। কলকাতা পুরনিগমের অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়, এই কালীচরণের ইশারা ছাড়া নাকি একটা পাতাও নড়ত না সেখানে। তাঁর চোখ দিয়েই কলকাতা পুরনিগমের কাজকর্ম দেখতেন তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
বৃহস্পতিবার রাতে আটক হওয়ার পর তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে কালীচরণকে। ২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ওই তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।
২০০৩ সালে রেভিনিউ সার্ভিসে যোগ দেন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৬ সালে ডব্লিউবিসিএস এক্সিকিউটিভ পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। পরে পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হন তিনি। ২০০৮ সালে পুলিশে যোগ দেন।
এরপর ২০০৯ সালে মিউনিসিপাল সার্ভিস কমিশনের ডেপুটি ম্যানেজারের পরীক্ষায় প্রথম হন। তখনই যোগদান করেন কলকাতা পুরনিগমের ৯ নম্বর বরোতে। ওই সেই বরোতে তখন চেয়ারম্যান ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। শোনা যায়, তখন থেকেই ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ এবং ‘গুড বয়’ হিসেবে নিজেকে তৈরি করেন কালীচরণ।
২০১৮ সালে ফিরহাদ হাকিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর কালীচরণকে নিজের ওএসডি পদে বসান তিনি। তারপর থেকে ফিরহাদের হাতে প্রত্যেকটা ফাইল পৌঁছত কালীর হাত ধরেই।
দিনভর বিতর্কের পর কালীচরণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কালীচরণ দাবি করেন, তিনি এসবের কিছুই জানেন না। আটক হওয়ার আগে পুরনিগমের এই আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বলা হচ্ছে, কালী ছাড়া নাকি কোনও প্ল্যান স্যাংশন হত না। আমি নাকি ক্যামাক স্ট্রিটের লোক। আমি নাকি তৃণমূল ভবনের ২০০ কোটি টাকা তুলেছি। আমি কোথা থেকে এর মধ্যে এলাম, কী করে জানব!”
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কালীকে তুললেই সব বেরিয়ে যাবে। কালী না বললে কোনও প্ল্য়ানে অনুমোদন হয় না। এই কালী ক্যামাক স্ট্রিটের অ্যাপয়েন্ট করা। বাইপাসের ধারে ২০০ কোটি টাকায় তৃণমূলর ভবন বানাচ্ছে এই কালী। এখান থেকে টাকা তুলে পাঠায়।”
তবে, ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, ক্যামাক স্ট্রিট কালীর বিরোধীই ছিল। বিধায়ক কুণাল ঘোষও দাবি করেছেন, কালীচরণকে একসময় সরাতেই চেয়েছিল ক্যামাক স্ট্রিট।