Sumit Roy: একসময়ের ‘ক্লাসমেট’, তবু বরাবর ‘স্যর’ বলেই ডেকেছেন অভিষেককে, কে এই সুমিত রায়

Abhishek Banerjee's PA Sumit Roy: অভিষেকের আপ্তসহায়ক। এটাই তাঁর পরিচয়। তবে ঘনিষ্ঠতা ও পরিচয় অনেক দিনের। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার অনেক আগে থেকেই সুমিতকে চিনতেন অভিষেক। যাঁরা কাছাকাছি থাকতেন, তাঁরা জানেন, কতটা ক্ষমতা ছিল সুমিতের।

Sumit Roy: একসময়ের ক্লাসমেট, তবু বরাবর স্যর বলেই ডেকেছেন অভিষেককে, কে এই সুমিত রায়
অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়Image Credit source: PTI

| Edited By: তন্নিষ্ঠা ভাণ্ডারী

Jun 13, 2026 | 11:41 PM

কলকাতা: ভোর পাঁচটায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়ির তালা ভেঙে তাঁকে খুঁজতে গিয়েছিল পুলিশ। শনিবার দিনভর শিরোনামে রইলেন সুমিত রায় (Sumit Roy)। বাড়িতে খোঁজা হল, শ্বশুরবাড়িতে খোঁজা হল, এমনকী স্ত্রীর পানশালায় পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল পুলিশ। কোথাও খোঁজ মেলেনি সুমিতের। পুলিশের দাবি, অভিষেকের পটুয়াপাড়ার বাড়িতেই নাকি পাওয়া গিয়েছে সুমিতের ফোনের ‘টাওয়ার লোকেশন’। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কে এই সুমিত রায়? কতটা ঘনিষ্ঠ? কেনই বা তাঁকে খুঁজতে সোজা অভিষেকের বাড়ি পৌঁছে গেল পুলিশ!

ঠিক কী অভিযোগ সুমিতের বিরুদ্ধে?

গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় দেখেছি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বাড়িতে নোটিস দিয়েছে ইডি-সিআইডি। তবে সে সব মামলার সঙ্গে সুমিতের কোনও সম্পর্ক নেই। আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠেছে অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে। টাকার বিনিময়ে টিকিট দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সেই মামলাতেই শালবনী থানার পুলিশ শনিবার ভোর থেকে তল্লাশি চালায় জায়গায় জায়গায়।

২০২২-এ কয়লা পাচার মামলাতেও উঠে আসে এই সুমিত রায়ের নাম। কয়লা-কাণ্ডের মামলায় মূল সাক্ষী হিসেবে ছিল তাঁর নাম। ওই মামলায় তাঁকে একাধিকবার তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

কে এই সুমিত রায়?

অভিষেকের আপ্তসহায়ক। এটাই তাঁর পরিচয়। তবে ঘনিষ্ঠতা ও পরিচয় অনেক দিনের। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার অনেক আগে থেকেই সুমিতকে চিনতেন অভিষেক।

সূত্রের খবর, কলকাতার যে স্কুলে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায় পড়াশোনা করেছেন, সেই স্কুলেই পড়েন সুমিত রায়। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সুমিত ও অভিষেক একই ক্লাসে পড়াশোনা করেছেন বলে জানা যায়। পরে এমবিএ করতে অভিষেক পাড়ি দেন দিল্লি। কিন্তু সুমিতের পরিবারের সেই আর্থিক অবস্থা ছিল না যে তাঁকে দিল্লিতে পড়াশোনা করতে পাঠাবেন। তাই কলকাতাতেই এমবিএ করেন সুমিত।

পরে যখন অভিষেক সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করবেন বলে ঠিক করেন, তখনই নাকি সুমিতের ডাক পড়ে। অভিষেক বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি কিন্তু শখে রাজনীতিটা করতে যাচ্ছেন না। রাজনীতিতে সুমিতকে সঙ্গে থাকার প্রস্তাব দেন অভিষেক। সুমিত ২-১ দিন ভাবার সময় নেন। তারপর রাজি হয়ে যান। সেটা ২০১৩। তখনই শুরু।

‘স্যর’ বলে ডাকতেন অভিষেককে

অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কাছাকাছি যাঁরা থেকেছেন, তাঁরা জানেন একজন আপ্তসহায়ক ঠিক যেভাবে কাজ করেন, সেভাবেই করতেন সুমিত রায়। একসময়ের সহপাঠী হলেও কোনওদিন ‘অভিষেক’ বা ‘অভিষেক দা’ বলে নয়, বরাবর অভিষেক ‘স্যর’ বলেই ডাকতেন তিনি। এতদিনের বন্ধু হলেও সেই সম্পর্ক কখনই প্রফেশনাল সম্পর্কে প্রভাব ফেলেনি বলেই জানা যায়।

কান পাতলে শোনা যায়, ‘বস’ (যে নামে অনুগামীদের অনেকেই ডাকতেন অভিষেককে) -এর সব কথাই শুনতেন সুমিত। সকাল থেকে শুরু করে রাত ২টো বা ৩টে পর্যন্তও কাজ করতেন। অভিষেকের সঙ্গে কে দেখা করবে, অভিষেক কখন কোথায় থাকবেন, সবটাই সামলাতেন সুমিত। অভিষেকের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হওয়ার সুবাদে সুমিতের ‘পাওয়ার’ যে বেশি ছিল, সে কথাও অস্বীকার করেন না অনেকেই।

Follow Us