
কলকাতা: বড়, ছোট, মেজো- সাম্প্রতিক অতীতে একের পর এক তৃণমূল নেতার দলীয় কার্যালয়ে চলেছে ‘রেইড’। খাট-আলমারি, তোষক-গদি, বালিশ, আলমারি, টাকা, ত্রাণের সামগ্রী, ত্রিপল, কন্ডোম, গর্ভ নিরোধক… বেশ কিছু জিনিস সবক্ষেত্রেই ‘কমন’। খাস কলকাতাতেও তৃণমূল ভবনে বেডরুম! ইএম বাইপাস লাগোয়া মেট্রোপলিটন লাগোয়া তৃণমূল ভবন থেকেও ছিল ঝাঁ চকচকে বেডরুম। বাঁকুড়ার ইন্দাসে তৃনমূলের ব্লক কার্যালয়ে তো খোঁজ মেলে আস্ত একটা গেস্ট হাউজের। কিন্তু একটা রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে কেন বেডরুম? এ নিয়ে চর্চা বিস্তর। সামাজিক মাধ্য়মেও তৈরি হয়ে যাচ্ছে একের পর এক ন্যারেটিভ। কেন দলীয় কার্যালয়ে একটা বেডরুম থাকার প্রয়োজন? এবার সামাজিক মাধ্য়মে এসেই তার ব্যাখ্যা দিলেন তৃণমূলের আইটি সেলের প্রাক্তন ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য। তিনি বোঝালেন কেন দলীয় কার্যালয়ে বেডরুম থাকার প্রয়োজন।
দেবাংশু বক্তব্য, দলীয় কার্যালয়ে বহু দূরদূরান্ত থেকে কর্মীরা আসেন। তাঁদের কিছুটা বিশ্রামের প্রয়োজন। তিনি লিখলেন, ” এই যে পার্টি অফিস গুলোতে বেডরুম পাওয়া নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের বন্ধুরা “এ বাবা, ছিঃ ছিঃ” বলে চিল-চিৎকার জুড়ছেন, তারা কি জানেন একটা পার্টি অফিসে কেন বেডরুম থাকে?” নিজেই ব্যাখ্যা দিলেন, “দূর দূরান্ত থেকে বহু নেতৃত্ব-কর্মী যখন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আসেন, তখন হোটেল ভাড়া করে যেন তাদের থাকতে না হয় তাই বহু জেলা অফিসেই বেডরুম, স্নানঘরের ব্যবস্থা রাখা হয়।”
দেবাংশুর বক্তব্য, তিনি নিজেও এমন অনেক জেলার দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছেন, যেখানে বেডরুম কেন, রান্নাঘরও রয়েছে। তাঁর কথায়, “গত সাত বছরে আমি নিজেই বহু জেলায় গিয়ে পার্টি অফিসে থেকেছি। শুধু বেডরুম নয়, বহু পার্টি অফিসে রান্নাঘরও থাকে, যেখানে রান্না করে আমাদের খাবার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বহুবার।”
তবে তিনি এও উল্লেখ করেছেন, “আমার এই পোস্ট কেবলমাত্র পার্টি অফিস গুলির জন্যই প্রযোজ্য। স্কুল-কলেজ থেকে যদি বেডরুম পাওয়া যায়, এবং সেটা যদি অসুস্থ হলে বিশ্রাম নেওয়ার “সিক রুম” না হয়ে থাকে, তবে সেগুলির যথাযথ তদন্ত দরকার।” কারণ সুরেন্দ্রনাথ-সহ একাধিক কলেজেও, এমনকি স্কুলের ছাদেও মিলেছে কন্ডোম। দেবাংশুর এই পোস্টের নীচে সেগুলোও অনেকে কমেন্ট করতে থাকেন।