
কলকাতা: ভোটে ভরাডুবি হয়েছে। ১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল। এবার কি কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকার তৃণমূল ভবনও ছাড়তে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে? কয়েকদিন ধরেই এই নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। এই অবস্থায় গতকাল বহুতল ভবনটির চারতলা ও পাঁচতলা থেকে জিনিসপত্র সরানো শুরু হয়। ফলে জল্পনা আরও বাড়ে। তবে বুধবার সেই জল্পনা খারিজ করে দিল তৃণমূল। জানিয়ে দিল, বহুতল ভবনটির মালিকের সঙ্গে তাদের ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে।
কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকার এই বহুতল ভবনটির মালিক মনোতোষ সাহা ওরফে মন্টু সাহা। দক্ষিণ কলকাতার একটি ডেকোরেটিং সংস্থার মালিক তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হিসেবেই পরিচিত। তাঁর এই বহুতলেই রয়েছে তৃণমূল ভবন। এদিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে যোগাযোগ করা যায়নি।
গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছে, এই বহুতল থেকে তৃণমূল ভবন সরতে চলেছে। কারণ, তৃণমূলের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। নতুন করে আর কোনও চুক্তি হয়নি। গতকাল রাতে আবার দেখা যায়, বহুতল থেকে জিনিসপত্র বের করা হচ্ছে। এমনকি, বহুতলের বাইরের দিকে যে সবুজ রং করা অংশ রয়েছে, তাও সাদা রং করা হচ্ছে। রাজমিস্ত্রিরা বলছেন, তাঁদের আপাতত সাদা প্রাইমার লাগিয়ে দিতে বলা হয়েছে। পরে কী রং হবে, তা এখনও তাঁদের বলা হয়নি।
কী বলছে তৃণমূল?
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই বহুতলে তৃণমূল ভবনটি রয়েছে। এখান থেকে দলের কার্যালয় সরে যাওয়ার জল্পনা খারিজ করে দিলেন তৃণমূল ভবনের ইনচার্জ সুবীর মজুমদার। তাঁর দাবি, “আমরা নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত ব্যবহার করি। চারতলা ও পাঁচতলা মালিকের দখলে রয়েছে। সেই চারতলা ও পাঁচতলা থেকেই জিনিসপত্র সরানো হয়েছে।”
২০২৫ সালে চুক্তি শেষের জল্পনা খারিজ করে তিনি বলেন, “আমাদের সঙ্গে মালিকের ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি আছে। আমরা এখানেই আছি। তৃণমূল ভবন এখানেই আছে। আপনারা ভুল তথ্য পেয়েছেন। উপরের দুটি তলার মালিক তাঁর কাজের জন্য ব্যবহার করছেন। আমাদের তিনটি তলা এখনও আছে। ওরা মেরামত করতে চাইছে। বাড়ির কী রং হবে, সেটা মালিক ঠিক করছেন। তবে ভবন আমাদের আছে।” ওই বহুতলের নিচে এখনও তৃণমূল ভবন লেখা জ্বলজ্বল করছে। তৃণমূলের বেশ কয়েকটি পতাকাও টাঙানোও রয়েছে।