
কলকাতা: ১২ পাতার অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম। আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের প্রত্যেকের বিষয়ে দিতে হচ্ছে খুঁটিনাটি নিখুঁত তথ্য। আবেদনকারীকে তাঁর সমস্ত ডিটেলস দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি দিতে হচ্ছে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের তথ্যও। সেক্ষেত্রে ফর্মের একেবারে শেষভাবে স্পষ্ট ভাবে বলে দেওয়া হয়েছে, পরিবার বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে।
১২ পাতার ফর্মের সাব ক্যাটাগরিতে অনেকগুলো বিভাগ রয়েছে। তবে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নিজেই স্পষ্ট করেছেন, “আপাতত আয়করের বিষয়টা আমরা দেখছি, আর বাকি ডেটা গুলি আমরা দেখে নিতে চাইছি ভবিষ্যতের জন্য।” উল্লেখ্য, কর্মসংস্থান, পেশা ও আয় নিয়ে মূলত ফর্মে ৫,৬,৭ পাতায় উল্লেখ রয়েছে।
ফর্ম এতটাই বড়, অনেকেই সময়ের অভাবে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বা অসচেতনতার কারণে ফর্মে ভুল তথ্য দিয়ে বসেন। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, সরকারি বা বেসরকারি যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ আবেদনের ক্ষেত্রে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ। আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দিলে কী শাস্তি হতে পারে?
আবেদন বাতিল ও ব্ল্যাকলিস্ট: প্রথমত, তথ্যে গরমিল ধরা পড়লে আবেদনটি তৎক্ষণাৎ বাতিল হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীকে কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) করে, যার ফলে ভবিষ্যতে সেখানে আর আবেদন করার সুযোগ থাকে না।
এই ফর্মের ১২ পাতায় ডিক্লেরেশন দিতে হচ্ছে। যেখানে লেখা রয়েছে, “আমি এই মর্মে ঘোষণা করছি যে, উপরে প্রদত্ত তথ্য আমার জ্ঞান ও বিশ্বাস অনুযায়ী সত্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আমি সকল সহায়ক নথি প্রদান করেছি এবং উপরে উল্লিখিত কোনও মানদণ্ড বাদ দিইনি। আমি অবগত যে, আমার প্রদত্ত কোনো তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে আমার সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত সুবিধাসমূহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”
মন্ত্রীর সতর্কতা
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করে সতর্ক করে দিয়েছেন, “একবারে সব ডেটা আমরা দেখে নিতে চাইছি। আমি মা-বোনদের অনুরোধ করবো আপনারা অসত্য কথা লিখবেন না। তাহলে আপনারা চিহ্নিত হয়ে যেতে পারেন। কারণ এই তথ্যের উপরেই যাচাই প্রক্রিয়া চলবে।”