
সিঁদুর খেলা, কোলাকুলি আর বিজয়ার প্রণাম সেরে ঘরে ফিরলেই শুরু হয় অতিথি আপ্যায়নের পালা। পাড়ার কাকা-জেঠিমা কিংবা আত্মীয়-স্বজনেরা ঘরে এলেই তো মিষ্টিমুখ করানোর রেওয়াজ বাঙালি বাড়িতে চিরকালীন। কিন্তু মহালয়া থেকে দশমী পর্যন্ত একটানা রান্নার ধকল সামলে বিজয়ার দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে মিষ্টি বানানোর ঝামেলা কি আর কারও ভালো লাগে? একদমই না!
উৎসবের এই আনন্দময় দিনে আপনার পরিশ্রম কমাতে এবং চটজলদি আপ্যায়ন নিশ্চিত করতে রইল এক দারুণ কৌশল। ঐতিহ্য বজায় রেখে মাত্র ৫ মিনিটে কীভাবে একেবারে দোকানের মতো খাস্তা ও সুস্বাদু ‘মিষ্টি নিমকি’ বানিয়ে ফেলবেন, জেনে নিন তার সহজ রেসিপি:
যা যা লাগবে—
ময়দা: ২ কাপ
ঘি বা সাদা তেল (ময়ান দেওয়ার জন্য): ৪ টেবিল চামচ
চিনি বা চিনির গুঁড়ো: আধ কাপ (স্বাদমতো কম-বেশি করে নিতে পারেন)
নুন: এক চিমটে (মিষ্টির স্বাদকে ব্যালেন্স করার জন্য সামান্য নুন জরুরি)
ঈষদুষ্ণ জল বা দুধ: ময়দা মাখার জন্য প্রয়োজনমতো
সাদা তেল: নিমকি ভাজার জন্য
এভাবে তৈরি করুন—
প্রথমে একটি বড় পাত্রে ময়দা, এক চিমটে নুন এবং গলানো ঘি বা তেল একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। হাতের তালু দিয়ে ডলে ডলে ময়দা ময়ান দিতে হবে। ময়দা হাতে নিয়ে মুঠো পাকিয়ে দেখলে যদি দেখেন বলের মতো আটকে থাকছে, তবে বুঝবেন ময়ান একদম নিখুঁত হয়েছে। এটিই নিমকিকে মুখে দিলেই মিলিয়ে যাওয়ার মতো মুচমুচে করবে।
এবার অল্প অল্প চিনির জল (জলে চিনি গুলে নেওয়া) দিয়ে ময়দা একটু শক্ত করে মেখে নিন। খেয়াল রাখবেন, ময়দা যেন লুচির মতো নরম না হয়। একটু টাইট করে মাখলে নিমকিগুলো বেশি খাস্তা হবে। মাখা ময়দা থেকে বড় কয়েকটি লেচি কেটে নিন। এবার একটু মোটা করে রুটির মতো বেলে নিন। এরপর একটি ধারালো ছুরি বা পিজ্জা কাটার দিয়ে বরফি বা ডায়মন্ড (Diamond) আকৃতিতে কেটে নিন। একসঙ্গে একগাদা নিমকি কেটে নেওয়ার এটিই সবচেয়ে দ্রুত ও সহজ উপায়। কড়াইয়ে পরিমাণমতো সাদা তেল গরম করুন। তেল খুব বেশি গরম করা যাবে না, মাঝারি আঁচে তেল গরম করে কেটে রাখা নিমকিগুলো তেলে ছেড়ে দিন। মৃদু আঁচে উল্টেপাল্টে সোনালি ও মচমচে করে ভেজে তেল থেকে তুলে নিন। ঠান্ডা হওয়ার পর এই নিমকি আরও বেশি মুচমুচে হয়ে উঠবে।