
এয়ার কন্ডিশনার (Air Conditioner) এখন আর কোনও বিলাসিতা নয়, বরং এই কাঠফাটা গরমে প্রাণ বাঁচানোর অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু একটু খেয়াল করে দেখেছেন কি, সারাদিন এসি চললেও ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা হচ্ছে কিনা? কিংবা একটানা চলার ফলে আপনার সাধের যন্ত্রটি অজান্তেই কোনও ‘টাইম বোম’-এ পরিণত হচ্ছে না তো? এই গরমে সুরক্ষিত থাকতে এবং এসির সঠিক পারফরম্যান্স পেতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এসি কেনার সময় সকলেই ব্র্যান্ড বা স্টার রেটিং দেখে কেনেন, কিন্তু ভেতরের কন্ডেন্সার কয়েলটি এড়িয়ে যান অনেকেই। বাজারে মূলত কপার (তামা) এবং অ্যালুমিনিয়াম কয়েলের এসি পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কপার কয়েল খুব দ্রুত ঘর ঠান্ডা করতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। এটি লিক হলে সামান্য গ্যাসে ওয়েল্ডিং করেই সারিয়ে নেওয়া যায়। অন্যদিকে, অ্যালুমিনিয়াম কয়েলের দাম কম হলেও এটি নরম ধাতু হওয়ায় দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং লিক হলে পুরোটাই পাল্টাতে হয়। তাই সামান্য টাকা বাঁচাতে গিয়ে অ্যালুমিনিয়াম কয়েল কিনলে মাঝ-গরমে এসি খারাপ হয়ে আপনার ভোগান্তি দ্বিগুণ হতে পারে।
সার্ভিসিংয়ের পরেও কী ঘর ঠান্ডা হচ্ছেনা?
দু’মাস আগেই মেকানিকের সঙ্গে কথা বলে সার্ভিসিং করিয়েছেন, তবুও এসির হাওয়া যেন ফ্যানের মতো! এই সমস্যায় ভোগেন অনেকেই এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:
১. গ্যাস লিক: এসির পাইপ লিক হয়ে রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস বেরিয়ে গিয়েছে, এমন অবস্থায় শুধু গ্যাস রিফিল করে কোনও লাভ নেই। আগে লিক সারাতে হবে।
২. ভেতরের ময়লা: অনেক সময় ইভাপোরেটর বা কনডেন্সার কয়েলে জেদি ময়লা জমে থাকে, যা সাধারণ পরিষ্কারে যায় না। এর জন্য জেট পাম্প ওয়াশ প্রয়োজন।
৩. ক্যাপাসিটর সমস্যা: ভোল্টেজের ওঠানামায় কম্প্রেসরের ক্যাপাসিটর খারাপ হয়ে গেলে কুলিং মোড অন হয় না।
৪. সেন্সরের গন্ডগোল: ভেতরের থার্মোস্ট্যাট সেন্সর স্থানচ্যুত হলে এসি বুঝতে পারে না ঘর আদেও ঠান্ডা হলো কি না।
৫. ভুল টনের এসি: ঘরের আয়তন এবং রোদের তীব্রতা অনুযায়ী সঠিক মাপের এসি না কিনলে সারাদিন চালিয়েও ঘর ঠান্ডা হবে না।
বিস্ফোরণের আগেই সতর্ক হবেন কীভাবে?
টানা এসি চালানোর ফলে অনেক সময় বড় বিপদের ঝুঁকি তৈরি হয়। হঠাৎ করে কোনও গ্যাজেট ব্লাস্ট করে না, আপনার এসিও বিপদ সংকেত দেয়। যদি দেখেন এসি থেকে হঠাৎ গরম হাওয়া বা ধোঁয়া বেরোচ্ছে, পোড়া গন্ধ পাচ্ছেন, বিকট শব্দ হচ্ছে অথবা এসি বারবার নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তবে এখনই সাবধান হোন! এগুলো বড়সড় দুর্ঘটনার পূর্বলক্ষণ।
কী করবেন?
এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করুন। আউটডোর ইউনিটে যেন ঠিকমতো বাতাস চলাচল করতে পারে, সেদিকে নজর রাখুন। ভোল্টেজ স্টেবিলাইজার ব্যবহার করুন এবং সারাদিন একটানা না চালিয়ে টাইমার সেট করে মেশিনটিকে একটু বিশ্রাম দিন। আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, একটু সতর্কতা আপনার পরিবারকে কত বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে পারে? আজই দক্ষ টেকনিশিয়ান ডেকে আপনার এসির হেলথ চেকআপ করিয়ে নিন।