AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Benefits Of Drinking Warm Water: দিনের শুরু এক গ্লাস উষ্ণ জলে? জানুন শরীরের ভেতরে রোজ কী কী ঘটছে

Daily Healthy Habits: সব জায়গাতেই ভোরের শুরুটা এক গ্লাস হালকা গরম জল দিয়ে করার পরামর্শ দেওয়া হয়। চা বা কফির বদলে সকালে খালি পেটে ঈষদুষ্ণ গরম জল পানের এই অভ্যাস শরীরের ভোল বদলে দিতে পারে। নিয়মিত গরম জল পান করলে আমাদের শরীরে ঠিক কী কী ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে, তা দেখে নেওয়া যাক।

Benefits Of Drinking Warm Water: দিনের শুরু এক গ্লাস উষ্ণ জলে? জানুন শরীরের ভেতরে রোজ কী কী ঘটছে
| Updated on: Jun 27, 2026 | 6:49 PM
Share

সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবনের চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে আমাদের রান্নাঘরের খুব সাধারণ একটি অভ্যাসের মধ্যে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকে শুরু করে প্রাচীন আয়ুর্বেদ— সব জায়গাতেই ভোরের শুরুটা এক গ্লাস হালকা গরম জল দিয়ে করার পরামর্শ দেওয়া হয়। চা বা কফির বদলে সকালে খালি পেটে ঈষদুষ্ণ গরম জল পানের এই অভ্যাস শরীরের ভোল বদলে দিতে পারে। নিয়মিত গরম জল পান করলে আমাদের শরীরে ঠিক কী কী ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে, তা দেখে নেওয়া যাক।

ওজন কমানোর লড়াইয়ে গরম জল সবচেয়ে সস্তা এবং কার্যকরী হাতিয়ার। সকালে খালি পেটে হালকা গরম জল খেলে শরীরের মেটাবলিজম রেট বা বিপাক ক্রিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি বা ফ্যাট অনেক সহজে পুড়তে শুরু করে। মেদ ঝরানোর গতি বাড়াতে অনেকে এই জলের সঙ্গে সামান্য লেবুর রস ও মধুও মিশিয়ে নেন।

খাওয়ার পর ঠান্ডা জল পানের অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ঠান্ডা জল খাবারের চর্বিযুক্ত উপাদানগুলোকে জমিয়ে দেয়, যা হজমে ব্যাঘাত ঘটায়। উল্টোদিকে, হালকা গরম জল পাকস্থলী ও অন্ত্রের পেশিগুলোকে সচল করে তোলে। এটি খাবারকে দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে, যার ফলে গ্যাস, অম্বল এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের (Constipation) মতো চিরস্থায়ী সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি মেলা সম্ভব।

গরম জল পান করলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে হালকা ঘাম হতে পারে। এই ঘাম এবং মূত্রের মাধ্যমেই শরীরের ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বাইরে বেরিয়ে যায়। শরীর ভেতর থেকে ডিটক্সিফাই বা পরিষ্কার হলে স্বাভাবিকভাবেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়ে।

শরীরে টক্সিনের মাত্রা বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। ব্রণ, ফুসকুড়ি এবং বলিরেখার অন্যতম কারণ হল শরীরের ভেতরের নোংরা। নিয়মিত গরম জল খেলে ত্বকের কোষগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা উন্নত হয়। ফলস্বরূপ, কোনও দামি প্রসাধনী ছাড়াই ত্বক হয়ে ওঠে ভেতর থেকে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।

হালকা গরম জল পানের ফলে শরীরের রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়, যা সারা শরীরে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ সচল রাখতে সাহায্য করে। এটি হৃদযন্ত্রের জন্যও ভীষণ উপকারী। এছাড়া, পেশির খিঁচুনি বা নারীদের পিরিয়ডকালীন পেটের ব্যথা কমাতেও গরম জল দারুণ প্রাকৃতিক থেরাপির কাজ করে।

যাঁরা সারা বছর সাইনাসের সমস্যা বা নাক বন্ধের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য গরম জল এক মহৌষধ। গরম জলের বাষ্প নাসিকাপথ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং গলার খুসখুসে ভাব বা কফ জমলে তা দূর করতে আরাম দেয়।

গরম জল উপকারী মানেই এই নয় যে একদম ফুটন্ত জল খেতে হবে। অতিরিক্ত গরম জল খেলে মুখের ভেতরের অংশ এবং পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। তাই সবসময় ‘ঈষদুষ্ণ’ বা ছোঁয়া যায় এমন হালকা গরম জল পানের অভ্যাসই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও বিজ্ঞানসম্মত।

Follow Us