
রসগোল্লা ছাড়া বাঙালির মিষ্টিপ্রেম যেন একেবারেই অসম্পূর্ণ। সুস্বাদু ছানার রসগোল্লা, নলেন গুড়ের রসগোল্লা কিংবা স্পঞ্জ রসগোল্লা—নাম শুনলেই জিভে জল চলে আসে আট থেকে আশির। তবে বাড়িতে রসগোল্লা বানাতে গেলে সবচেয়ে বড় ভয় থাকে ছানা ঠিকঠাক হবে তো, নাকি রসগোল্লা শক্ত হয়ে যাবে! এবার সেই সমস্ত চিন্তা দূর হতে চলেছে। ছানা তৈরির ঝক্কি বা নামীদামি মিষ্টির দোকানে টাকা খরচ না করেই, রান্নাঘরে থাকা সাধারণ স্লাইস পাউরুটি দিয়েই বানিয়ে নেওয়া যায় মুখে দিলেই মিলিয়ে যাওয়া তুলতুলে স্পঞ্জ রসগোল্লা। সোশাল মিডিয়ায় এখন দারুণ ভাইরাল এই নিত্যনতুন ফিউশন রেসিপি।
কী কী লাগবে?
পাউরুটি: ৫টি স্লাইস (কিনারা বাদ দেওয়া)
দুধ: ১ কাপ
লেবুর রস: ১ চা চামচ (অথবা সামান্য ক্যালসিয়াম ল্যাকটেট পাউডার)
চিনি: ১ কাপ
জল: ১ কাপ
এলাচ গুঁড়ো: আধ চা চামচ
কুচানো বাদাম: সাজানোর জন্য সামান্য
এভাবে বানান
প্রথমেই পাউরুটির শক্ত কিনারার অংশগুলো কেটে বাদ দিয়ে ভেতরের সাদা অংশ ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এবার দুধ গরম করে তাতে লেবুর রস মিশিয়ে সামান্য নরম ছানা তৈরি করে নিতে হবে। সাদা পরিষ্কার সুতির কাপড়ে ছানা ছেঁকে নিয়ে জল ঝরিয়ে নিন। তারপর সেই নরম ছানার সঙ্গে কেটে রাখা পাউরুটির টুকরো খুব ভালো করে হাত দিয়ে চটকে এক মণ্ড তৈরি করে নিন। মিশ্রণটি বেশ মসৃণ হয়ে এলে তা থেকে ছোট ছোট মাপের বলের মতো লেচি কেটে দু’হাতের তালুর সাহায্যে গোল করে রসগোল্লার আকার দিন। এবার চিনির সিরা বা রস তৈরির পালা। একটি পাত্রে সমপরিমাণ জল ও চিনি একসঙ্গে ফুটিয়ে নিন। রস ফুটে উঠলে তাতে সুন্দর গন্ধের জন্য আধ চামচ এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে দিন।
চিনির সিরা ফুটতে শুরু করলে আগে থেকে গড়ে রাখা রসগোল্লার বলগুলো সিরায় ছেড়ে দিন। মাঝারি আঁচে ঢাকা দিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ফুটতে দিন, যাতে রসগোল্লাগুলো রসে টুসটুসে ও আকারে বড় হয়ে ওঠে। মাত্র কয়েক মিনিটেই তৈরি ধোঁয়া ওঠা গরম গরম পাউরুটির রসগোল্লা! ওপর থেকে কিছুটা কুচানো বাদাম ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। শুধু সাধারণ রসগোল্লাই নয়, একইভাবে বানিয়ে নেওয়া যায় জিভে জল আনা রসমালাই কিংবা রসগোল্লার পায়েসও। যেকোনো ছোটখাটো উদ্যাপনে ঝটপট মিষ্টি বানাতে এই সহজ টোটকা হতে পারে আপনার রান্নাঘরের সেরা হাতিয়ার।