Cockroach Milk: বাজারে বিক্রি হয় আরশোলার দুধও! এর পুষ্টিগুণ জানলে চমকে যাবেন

হ্যাঁ, শুনতে অদ্ভুত লাগলেও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। আরশোলার এক বিশেষ প্রজাতি থেকে তৈরি হচ্ছে অত্যন্ত পুষ্টিকর দুধ (Cockroach Milk), এমনকি তৈরি হচ্ছে পাউরুটি বানানোর আটাও। বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংস্কৃতি এবং পুষ্টির উৎস নিয়ে চলা নানা গবেষণার মাঝে এই ‘ককরোচ মিল্ক’ এখন বিজ্ঞানীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Cockroach Milk: বাজারে বিক্রি হয় আরশোলার দুধও! এর পুষ্টিগুণ জানলে চমকে যাবেন

|

May 23, 2026 | 7:00 PM

ভারতীয় গৃহস্থালিতে আরশোলা মানেই নোংরা আবর্জনা আর একরাশ অসুখ-বিসুখের উৎস। রান্নাঘরে একটা আরশোলা দেখলেই যেখানে গৃহিণীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে, সেখানে এই পতঙ্গটিই নাকি হতে পারে পুষ্টির এক অবিশ্বাস্য ভাণ্ডার! হ্যাঁ, শুনতে অদ্ভুত লাগলেও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। আরশোলার এক বিশেষ প্রজাতি থেকে তৈরি হচ্ছে অত্যন্ত পুষ্টিকর দুধ (Cockroach Milk), এমনকি তৈরি হচ্ছে পাউরুটি বানানোর আটাও। বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংস্কৃতি এবং পুষ্টির উৎস নিয়ে চলা নানা গবেষণার মাঝে এই ‘ককরোচ মিল্ক’ এখন বিজ্ঞানীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষই পুষ্টির জন্য গরু বা মোষের দুধের ওপর ভরসা করেন। কিন্তু ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গিয়েছে, ‘ডিপ্লোপটেরা পাঙ্কটাটা’ (Diploptera punctata) নামের এক বিশেষ প্রজাতির আরশোলার দুধের পুষ্টিগুণ সাধারণ স্তন্যপায়ী প্রাণীর দুধের চেয়ে বহুগুণ বেশি।

এই নির্দিষ্ট প্রজাতির আরশোলাটি ডিম পাড়ার পরিবর্তে সরাসরি বাচ্চার জন্ম দেয় এবং নিজের বাচ্চাদের পুষ্টির জন্য এক ধরণের তরল উৎপন্ন করে, যা শুকিয়ে প্রোটিন ক্রিস্টালে পরিণত হয়। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই আরশোলার দুধে থাকা প্রোটিন ক্রিস্টাল থেকে যে পরিমাণ শক্তি বা এনার্জি পাওয়া যায়, তা মোষের দুধের তুলনায় প্রায় তিন গুণ (বা ৩৭ শতাংশ) বেশি।

গরু বা মোষের দুধে যা পাওয়া যায় না, আরশোলার দুধে সেই সমস্ত জরুরি উপাদান মজুত রয়েছে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে,

ওলেইক অ্যাসিড (Oleic Acid)

কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিড (Conjugated Linoleic Acid)

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (Omega-3 Fatty Acid)

প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান (Minerals)

আটা তৈরিতেও আরশোলা! কী বলছেন গবেষকেরা?

শুধু দুধই নয়, আরশোলা থেকে তৈরি হচ্ছে আটাও। ব্রাজিলে করা একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ‘নওফোয়েটা সিনারিয়া’ (Nauphoeta cinerea) নামের আরেকটি প্রজাতির আরশোলা থেকে তৈরি আটাতে সাধারণ গমের আটার চেয়ে অনেক বেশি প্রোটিন থাকে। এই ‘কীটপতঙ্গের আটা’ বা ইনসেক্ট ফ্লাওয়ারে মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় আটটি অ্যামিনো অ্যাসিড এবং ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিডের বিপুল উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

রেড মিটের চেয়েও কি সেরা আরশোলার প্রোটিন?

প্রোটিনের রাজা হিসেবে আমরা সাধারণত মটন বা চিকেনকেই চিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তরের (USDA) রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম রোস্টেড মটনে প্রায় ২৭.১ গ্রাম প্রোটিন থাকে। অর্থাৎ রেড মিটের প্রায় ৫০ শতাংশ জুড়েই থাকে প্রোটিন। কিন্তু শুনলে চমকে উঠবেন, আরশোলার শরীরে প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৭০ শতাংশ! শুধু তা-ই নয়, রেড মিট খেলে শরীরে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে, যা আরশোলার প্রোটিনের ক্ষেত্রে অনেকটাই কম।

খাদ্য তালিকায় এই ধরণের কীটপতঙ্গের অন্তর্ভুক্তি হয়তো সাধারণ মানুষের কাছে এখনও বেশ অস্বস্তিকর, কিন্তু ভবিষ্যতের খাদ্য সংকট মোকাবিলা এবং প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে এই ‘ককরোচ মিল্ক’ এবং ‘ইনসেক্ট ফ্লাওয়ার’ যে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই বিজ্ঞানীদের মনে।

Follow Us