
এক সময় দিদা-ঠাকুমাদের ঘরোয়া টোটকাকে অনেকেই সেকেলে বলে উড়িয়ে দেন। ভরসা থাকে বিজ্ঞাপনের নামী-দামী ব্র্যান্ডের রাসায়নিক ভরা শ্যাম্পুর ওপর। তবে এখন শ্যাম্পুর চটকদার মোড়ক আর কেমিক্যালের দাপটে চুলের বারোটা বাজার পর অনেকেই আবার ফিরছেন সেই পুরনো আয়ুর্বেদিক দাওয়াইতেই। মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে যদি রুক্ষ, জট পড়া চুল আবার আয়নার মতো ঝকঝকে হয়ে ওঠে, তবে মন্দ কী!
আজকাল অল্প বয়সেই চুল পড়া বা চুল অকালে পেকে যাওয়া একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পেছনে যেমন রয়েছে খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম আর প্রোটিনের অভাব, তেমনই দায়ী মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ। থাইরয়েড বা হরমোনের সমস্যার পাশাপাশি স্টাইলিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হিটিং টুলস চুলের দফারফা করে দিচ্ছে। এই সব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি উপাদান দিয়েই বানিয়ে ফেলা সম্ভব প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী এক ভেষজ শ্যাম্পু।
কী কী লাগবে এই ঘরোয়া শ্যাম্পু বানাতে?
এই বিশেষ আয়ুর্বেদিক মিশ্রণটি তৈরি করতে খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। সবকটিই হাতের কাছে বা দশকর্মার দোকানে সহজেই পাওয়া যায়।
আমলকী, রিঠা ও শিকাকাই: চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং প্রাকৃতিকভাবে ময়লা পরিষ্কার করতে এর জুড়ি নেই।
মেথি: চুল পড়া বন্ধ করতে আর গোড়ায় পুষ্টি জোগাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
জবা ফুল বা পাউডার: চুলকে কন্ডিশনিং করে রেশমের মতো নরম রাখে।
অ্যালোভেরা জেল: স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং খুশকি দূর করে।
হলুদ গুঁড়ো: অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে সংক্রমণের হাত থেকে মাথাকে রক্ষা করে।
বানানোর পদ্ধতি ও ব্যবহার
প্রথমে আমলকী, শিকাকাই, রিঠা, জবা এবং মেথি একসাথে এক মগ জলে সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। সারারাত ভেজানোর ফলে উপকরণের সমস্ত ভেষজ গুণ জলের সাথে মিশে যায়। পরের দিন সকালে এই মিশ্রণটি ৫-৭ মিনিট হালকা আঁচে ফুটিয়ে নিতে হবে। জল ফুটে উঠলে এর আয়ুর্বেদিক গুণাগুণ আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর আঁচ বন্ধ করে জলটি ঠান্ডা হতে দিতে হবে। ঠান্ডা হলে ভালো করে ছেঁকে নিয়ে তাতে অ্যালোভেরা জেল আর সামান্য হলুদ মিশিয়ে নিলেই তৈরি কেমিক্যাল-মুক্ত ঘরোয়া শ্যাম্পু।
ব্যবহারের নিয়ম: সাধারণ শ্যাম্পুর মতোই এটি চুলে ও স্ক্যাল্পে মেখে হালকা হাতে মাসাজ করতে হবে। রিঠা থাকার কারণে এতে প্রাকৃতিক ফেনা হয়, যা চুলের তেলতেলে ভাব নিমিষেই কাটিয়ে দেয়। ২-৩ মিনিট রেখে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে অন্তত দুই-তিন দিন এটি ব্যবহার করলে তফাতটা নিজের চোখে দেখা যাবে।
কেন বাজারের শ্যাম্পু ছেড়ে এটি ব্যবহার করবেন?
বাজারে পাওয়া শ্যাম্পুতে প্রচুর পরিমাণে সালফেট আর প্যারাবেন থাকে, যা সাময়িকভাবে চুল পরিষ্কার দেখালেও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে। অন্যদিকে, আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী আমলকী ও শিকাকাইয়ের প্রাকৃতিক ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলের ফলিকলকে ভেতর থেকে পুনরুজ্জীবিত করে। এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল শুধু সিল্কি হয় না, বরং নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। খরচ বাঁচিয়ে ঘরোয়া উপায়ে নিজেকে সুন্দর রাখার এর চেয়ে ভালো বিকল্প আর কিছু হতে পারে না।