
ট্রাফিক আইনের কড়াকড়িতে এখন আর রাস্তায় চুল উড়িয়ে বাইক চালানোর সুযোগ নেই। জরিমানা এড়াতে এবং সুরক্ষার খাতিরে সব বাইক আরোহীর মাথাতেই এখন হেলমেটের বাধ্যতামূলক উপস্থিতি। কিন্তু এই হেলমেট ঘিরেই বাইক-প্রেমীদের মনে বাসা বেঁধেছে এক গভীর আতঙ্ক— রোজ হেলমেট পরলে কি চুল ঝরে গিয়ে অকালেই মাথা জোড়া টাক পড়ে যাবে? অনেকেই নিজেদের চুল পড়ার জন্য সরাসরি হেলমেটকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তবে বিশেষজ্ঞরা কিন্তু অন্য কথা বলছেন। আসল সত্যিটা জানলে আপনিও স্বস্তি পাবেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হেলমেট পরার সঙ্গে সরাসরি চুল পড়ে যাওয়ার বা টাক পড়ার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। টাক পড়ার মূল কারণ লুকিয়ে থাকে আমাদের জিনের মধ্যে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে চুল পড়ার প্রধান কারণ হলো জিনগত সমস্যা বা ‘অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া’ (Androgenetic Alopecia)। মাথায় হেলমেট বা টুপি পরলে চুলের গোড়ার ডিএনএ পরিবর্তন হয়ে যায় না।
মহিলাদের ক্ষেত্রে থাইরয়েড (Thyroid) বা পিসিওডি (PCOD)-এর মতো হরমোনজনিত সমস্যার কারণেই মূলত চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
হেলমেট নিজে চুল না ফেললেও, এটি ভুলভাবে ব্যবহারের ফলে চুলের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এর পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি কারণ,
ভুল মাপের হেলমেট: হেলমেট যদি অতিরিক্ত আঁটসাঁট হয়, তবে তা পরা এবং খোলার সময় চুলের গোড়ায় টান পড়ে। ডাক্তারি পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ট্র্যাকশন অ্যালোপেশিয়া’ (Traction Alopecia)। এর ফলে চুলের গোড়া ক্রমশ আলগা হয়ে যায় এবং চুল ঝরতে শুরু করে।
ঘাম ও খুশকির উপদ্রব: গরমকালে দীর্ঘক্ষণ হেলমেট পরে থাকলে মাথার ত্বকে প্রচুর ঘাম হয়। বাইরের ধুলোবালি এবং আটকে থাকা ঘাম মিলে মাথার ত্বকে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের জন্ম দেয়। এর ফলে মাথায় খুশকি বাসা বাঁধে, যা চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
চুল ভেঙে যাওয়া: অনেক মহিলাই শক্ত করে পনিটেল বেঁধে তার ওপর হেলমেট পরেন। হেলমেটের ভেতরে হওয়া ঘর্ষণের ফলে মাঝখান থেকে চুল ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
আইনের মান্যতা এবং নিজের সুরক্ষার জন্য হেলমেট পরা যেমন জরুরি, তেমনই একটু সচেতন হলে সাধের চুলগুলোকেও রক্ষা করা সম্ভব। মেনে চলুন এই সহজ টিপসগুলো:
সঠিক মাপ বেছে নিন: হেলমেট কেনার সময় খেয়াল রাখুন তা যেন মাথার মাপ অনুযায়ী একেবারে সঠিক হয়। অতিরিক্ত টাইট বা খুব ঢিলেঢালা হেলমেট কেনা থেকে বিরত থাকুন।
সুতির রুমাল বা ব্যান্ডানা ব্যবহার করুন: সরাসরি মাথায় হেলমেট পরার বদলে একটি পরিষ্কার সুতির রুমাল বা স্কার্ফ মাথায় বেঁধে নিন। এটি মাথার ঘাম শুষে নেবে এবং হেলমেটের সঙ্গে চুলের ঘর্ষণ কমাবে।
ভেজা চুলে হেলমেট নয়: স্নান করেই ভেজা চুলে বাইক নিয়ে বেরোবেন না। ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া সবচেয়ে নরম থাকে। এই অবস্থায় হেলমেট পরলে চুল পড়ার হার সবচেয়ে বেশি হয়।
হেলমেট পরিষ্কার রাখুন: সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দু’বার হেলমেটের ভেতরের ফোম বা প্যাডিং ভালো করে পরিষ্কার করুন ও রোদে শুকিয়ে নিন। এতে জীবাণু ও দুর্গন্ধ জমতে পারবে না।
সুতরাং, শুধু হেলমেটকে দোষ না দিয়ে নিয়ম মেনে চলুন। এতে ট্রাফিক আইনও মানা হবে, নিজের মাথাও সুরক্ষিত থাকবে এবং চুলের স্বাস্থ্যও থাকবে অটুট।