শিশুর গলায় খাবার আটকে গেলে কী করবেন? আতঙ্ক নয়, সঠিক পদ্ধতি জানুন

তবে প্রথমে বুঝবেন কী করে? যদি শিশু কাশতে থাকে, কাঁদতে পারে, শব্দ বেরোয়- তবে পুরোপুরি শ্বাসনালি বন্ধ হয়নি। সে ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হয়ে মুখে হাত ঢোকাবেন না। এতে খাবার আরও ভিতরে ঢুকে যেতে পারে। বরং শিশুকে কাশতে দিন। কাশি অনেক সময় নিজেই সমস্যার সমাধান করে।

শিশুর গলায় খাবার আটকে গেলে কী করবেন? আতঙ্ক নয়, সঠিক পদ্ধতি জানুন
Image Credit source: AI

Feb 23, 2026 | 6:45 PM

এক মুহূর্ত আগেও হাসছিল, খেলা করছিল। হঠাৎই খাওয়ার সময় মুখটা লাল হয়ে উঠল, শব্দ বন্ধ—বাচ্চার গলায় যেন কিছু আটকে গিয়েছে! বাড়ির ভিতর তখন আতঙ্কের ঝড়। এই ঘটনার সম্মুখীন হন অনেকেই। এই কয়েক সেকেন্ডেই অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন বড়রা। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পদক্ষেপ নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

শিশুর গলায় খাবার আটকে যাওয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাযায় বলা হয় ‘চোকিং’। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, ছ’মাস থেকে তিন বছর- এই সময়টাতেই ঝুঁকি বেশি। কারণ, দাঁত পুরো গজায় না, গিলতে শেখার প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয় না। ভারতীয় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠনগুলির পরামর্শ অনুযায়ী, শক্ত, গোল বা পিচ্ছিল খাবার-যেমন আঙুর, বাদাম, শক্ত বিস্কুট- এই বয়সে সাবধানে দিতে হবে।

তবে প্রথমে বুঝবেন কী করে? যদি শিশু কাশতে থাকে, কাঁদতে পারে, শব্দ বেরোয়- তবে পুরোপুরি শ্বাসনালি বন্ধ হয়নি। সে ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হয়ে মুখে হাত ঢোকাবেন না। এতে খাবার আরও ভিতরে ঢুকে যেতে পারে। বরং শিশুকে কাশতে দিন। কাশি অনেক সময় নিজেই সমস্যার সমাধান করে।

কিন্তু যদি শিশুর মুখ নীলচে হয়ে যায়, শব্দ না বেরোয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়- তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে এক বছরের কম বয়সি শিশুকে উপুড় করে আপনার কাঁধ বা উরুর উপর রাখুন, মাথা একটু নীচের দিকে। পিঠের মাঝামাঝি জায়গায় হাতের তালু দিয়ে পাঁচ বার দৃঢ়ভাবে চাপড় দিন। কাজ না হলে শিশুকে চিত করে বুকে দু’আঙুল দিয়ে পাঁচ বার চাপ দিন। এই পদ্ধতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণে শেখানো হয়।

এক বছরের বেশি বয়সের বাচ্চা হলে ‘হাইমলিক পদ্ধতি’ প্রয়োগ করা যায়- যদিও তা সঠিকভাবে না শিখে একেবারেই প্রয়োগ করবেন না। ভুলভাবে করলে আঘাতের আশঙ্কা থাকে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞই অভিভাবকদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

আরও একটি বড় ভুল হল আঙুল বা চামচ দিয়ে খাবার বের করতে যাওয়া। চোখে না দেখলে কখনওই মুখে হাত দেবেন না। এতে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এমন পরিস্থিতিতে শিশুকে একা ছেড়ে দেবেন না। খাওয়ানোর সময় বসিয়ে রাখুন, দৌড়তে দৌড়তে বা খেলতে খেলতে খাবার দেবেন না। খাবার ছোট ছোট টুকরো করে দিন।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us