
রোজকার ডায়েটে ভিটামিন সি (Vitamin C) রাখা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু বাঙালির পাতে যদি অতিরিক্ত লেবু পড়ে, তবে কি লাভের চেয়ে লোকসানই বেশি? সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই মধু-লেবুর জল, দুপুরের রোদে এক গ্লাস ঠান্ডা লেবুর শরবত আর ভাতের পাতে এক টুকরো পাতিলেবু— এই অভ্যাসগুলো কি আপনার অজান্তেই শরীরের ক্ষতি করছে? সাম্প্রতিক গবেষণা কিন্তু বিপদের সংকেত দিচ্ছে।
বারবার লেবু খাওয়া নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
সাইট্রিক অ্যাসিডের (Citric Acid) প্রধান উৎস হল টক জাতীয় ফল বা লেবু। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কিংবা ত্বকের জেল্লা ফেরাতে এর জুড়ি মেলা ভার। তবে ‘বিএমসি মেডিক্যাল ইনফরমেটিভস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষকরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত সাইট্রিক অ্যাসিড শরীরে প্রবেশ করলে দাঁতের এনামেল যেমন নষ্ট হয়, তেমনই রক্তে ক্যালশিয়ামের মাত্রা কমে গিয়ে পেশিতে টান ধরার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘হাইপোক্যালসেমিয়া’।
লেবু থেকে কী কী বিপদ ঘটতে পারে?
১. দাঁতের ক্ষতি– দীর্ঘক্ষণ লেবুর রসের সংস্পর্শে থাকলে দাঁতের উপরের শক্ত আস্তরণ বা এনামেল ক্ষয়ে যায়। এর ফলে দাঁতে শিরশিরানি থেকে শুরু করে ক্যাভিটি বা গর্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে ওঠে।
২. পেটের গোলমাল ও বুক জ্বালা: যাঁদের আগে থেকেই অম্বলের ধাত রয়েছে, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত লেবু বিষের মতো কাজ করতে পারে। লেবুর অ্যাসিডিক উপাদান পাকস্থলীর আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার ফলস্বরূপ বুক জ্বালা, বমি ভাব বা পেটে তীব্র অস্বস্তি দেখা দেয়।
৩. মুখের ঘা: মুখে যদি কোনও কারণে ক্ষত বা ঘা হয়ে থাকে, তবে লেবুর রস সেই ক্ষতকে আরও বাড়িয়ে দেয়। অ্যাসিডের সংস্পর্শে এলে সেই অংশে তীব্র জ্বালা অনুভব হতে পারে।
কাদের লেবুতে রাশ টানা প্রয়োজন?
যাঁদের দাঁত শিরশির করার সমস্যা আছে কিংবা যারা ক্রনিক অ্যাসিডিটিতে ভুগছেন, তাঁদের লেবু খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে প্যাকেটজাত ফলের রস বা ঠান্ডা পানীয় এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এগুলোতে সাইট্রিক অ্যাসিডের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। প্রকৃতি প্রদত্ত এই ফলের উপকারিতা অপরিসীম, তবে তা গ্রহণ করতে হবে পরিমিতভাবে। মনে রাখবেন, সুস্থ থাকতে নিয়ম মেনে খাওয়াই হল আসল চাবিকাঠি।