
– সৌরভ চক্রবর্তী
কলকাতা: কোনও একসময় মোবাইল ব্যবহার করা হত শুধুমাত্র কথা বলার জন্য বা মেসেজ করার জন্য। কিন্তু এই ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ফোন শুধুই ফোন নয়, অনেকের কাছেই এটি মিনি কম্পিউটারও। ফোনের পাশাপাশি মেসেজ, চ্যাট, ছবি তোলা, গেম খেলা – কি না হয়? কিন্তু হঠাৎ একদিন যদি দেখেন আপনার গ্যালারির কোনও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও অন্য কারও হাতে চলে গেছে, কিংবা ইন্টারনেটের কোনো খোলা প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন কী করবেন? শুনতে আতঙ্কের মনে হলেও, এটাই এখনকার তেতো সত্যি। অনেকেরই ধারণা, ফোন আনলক না করলে বা হাতে না পেলে বোধহয় গ্যালারির ডাটা চুরি করা অসম্ভব। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও তা নয়। একটু সহজ ভাষায় বুঝে নেওয়া যাক কীভাবে আমাদের অজান্তেই এই ডাটা লিক বা চুরি হয়ে যাচ্ছে।
কীভাবে লিক হচ্ছে আপনার গ্যালারির প্রাইভেট ছবি ও ভিডিও?
১. যেকোনো অ্যাপকে ‘All Photos’ পারমিশন দেওয়া:
নতুন কোনও এডিটিং অ্যাপ, গেম কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ইনস্টল করার সময়ই আমরা চোখ বন্ধ করে ‘Allow Access to Photos and Media’ অপশনে ক্লিক করে দিই। এখানেই ভুল। একটা সাধারণ টর্চ বা ক্যালকুলেটর অ্যাপের কি সত্যি আপনার গ্যালারির অ্যাক্সেস প্রয়োজন আছে? এই ধরনের অনেক সাধারণ অ্যাপের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে ক্ষতিকারক স্পাইওয়্যার (Spyware), যা ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার অজান্তেই ছবি ও ফাইল সার্ভারে পাঠাতে থাকে।
২. ফ্রি বা পাবলিক ওয়াই-ফাই (Public Wi-Fi):
ক্যাফে, বাসস্ট্যান্ড বা রেলওয়ে স্টেশনের পাসওয়ার্ড ছাড়া ফ্রি ওয়াই-ফাই অনেকেই ব্যবহার করেন। কিন্তু এই ধরণের unsecured নেটওয়ার্কে ওত পেতে বসে থাকে হ্যাকাররা। একে বলা হয় Man-in-the-Middle (MITM) অ্যাটাক। যখন কোনও ফাইল ক্লাউডে সিঙ্ক হয় বা কাউকে পাঠানো হয়, তখন সেই unsafe নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আপনার ডেটা সহজেই চুরি করা সম্ভব।
৩. ফিশিং লিংক ও মেসেজ (Phishing Links):
“আপনি লটারিতে ৫ লাখ টাকা জিতেছেন” বা “আপনার কুরিয়ার পার্সেল আটকে আছে, ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন”—এই ধরনের আকর্ষণীয় টেক্সট মেসেজ বা হোয়াটসঅ্যাপ লিংকে ক্লিক করতেই ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার অজান্তে কোনও ‘Trojan’ বা ক্ষতিকারক ফাইল ডাউনলোড হয়ে যায়। এটি সরাসরি ফোনের ফাইল ম্যানেজারের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে তুলে দেয়।
৪. ক্লাউড ব্যাকআপের দুর্বল পাসওয়ার্ড:
আমরা অনেকেই গুগল ফটোজ (Google Photos) বা আইক্লাউড (iCloud)-এ ব্যাকআপ অন করে রাখি। কিন্তু যদি আপনার জিমেইল বা অ্যাপল আইডির পাসওয়ার্ড খুব সহজ হয় (যেমন: 123456 বা আপনার নাম/জন্মতারিখ) এবং Two-Factor Authentication অন না থাকে, তবে ফোন চুরি না হলেও শুধু অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেই যে কেউ পুরো ব্যাকআপ গ্যালারির অ্যাক্সেস পেয়ে যেতে পারে।
হ্যাকারদের হাত থেকে আপনার ফোনের গ্যালারি কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন?
স্মার্টফোন আমাদের সুবিধার জন্য, কিন্তু আমাদের অজান্তে একটু অসাবধানতাই বড় বিপদের কারণ হতে পারে। আজই আপনার ফোনের সেটিংসে গিয়ে অ্যাপ পারমিশনগুলো একবার যাচাই করে নিন। তাহলেই আপনি ও আপনার তথ্য – দুইই সেফ থাকবে।