
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, শরীরকে সুস্থ রাখতে গেলে বাত, কফ এবং পিত্ত—এই তিন দোষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। গরমের মরসুমে মূলত পিত্ত দোষের প্রাবল্য দেখা যায়। যার জেরে বদহজম, অ্যাসিডিটি, বমি ভাব বা পেটের গণ্ডগোল লেগেই থাকে। এই সমস্যাগুলি এড়াতে আজ থেকেই জীবনযাত্রায় নিয়ে আসুন সামান্য কিছু পরিবর্তন।
দিনের শুরুটা হওয়া চাই পর্যাপ্ত জল দিয়ে। জয়পুরের আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ড. কিরণ গুপ্তের মতে, সকালে খালি পেটে হালকা গরম জলে সামান্য লেবুর রস এবং এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে খেলে শরীর ভেতর থেকে শুদ্ধ হয়। এছাড়া ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাব বা নারকেলের জল অত্যন্ত উপকারী। তবে ডায়েটিশিয়ান সুরভি পারীকের মতে, যাঁদের গ্যাস বা মারাত্মক অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তাঁদের খালি পেটে ডাবের জল এড়িয়ে চলাই ভালো।
তীব্র গরমে মশলাদার বা তেল-ঝাল খাবার আপনার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। আয়ুর্বেদ বলছে, এই সময়ে এমন খাবার বেছে নেওয়া উচিত যা মরসুমি এবং সহজে হজম হয়। গরমের দিনে মুগ ডাল পেটের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। বেশি করে মরসুমি ফল ও সবজি ডায়েটে রাখুন, যা প্রাকৃতিকভাবেই শরীরকে ঠান্ডা রাখবে।
গরমের দিনে শরীরের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমকে শীতল রাখতে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ব্রিদিং এক্সারসাইজ জাদুর মতো কাজ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘Sheetali’ এবং ‘Sitkari’ প্রাণায়াম শরীরকে ঠান্ডা রাখার জন্য সেরা। এছাড়া ‘অনুলোম-বিলোম’ শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে। প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট এই অভ্যাস করলে কেবল শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। শরীরকে সচল রাখতে প্রতিদিন ‘বালাসন’ করারও পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
গরম আসার আগেই যদি আপনি এই আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিগুলো অভ্যেস করতে শুরু করেন, তবে হিটওয়েভ বা প্রবল দাবদাহের মধ্যেও আপনি থাকবেন সতেজ ও রোগমুক্ত।