
ক্যালেন্ডারের পাতায় উঁকি দিচ্ছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ। কিন্তু কর্পোরেট দুনিয়ার ইঁদুর দৌড়ে অনেকেরই এই বিশেষ দিনে অফিসের ছুটি জোটে না। তবে তাতে মন খারাপের কিছু নেই। কাজের ফাঁকেই সহকর্মীদের নিয়ে মেতে উঠতে পারেন বর্ষবরণের আনন্দে। অফিসের চার দেওয়ালের মাঝে কীভাবে উৎসবের আমেজ তৈরি করবেন?
অফিসে ফর্মাল বা ক্যাজুয়াল তো রোজই পরা হয়। তবে পয়লা বৈশাখের দিনটিতে বাধ্যতামূলকভাবে বেছে নিন সাবেকি সাজ। পুরুষেরা পাঞ্জাবি আর মহিলারা শাড়ি বা কুর্তি পরুন। অফিসের ড্রেস কোড যদি লাল-সাদা বা একটু উজ্জ্বল রঙের হয়, তবে কাজের পরিবেশটাই বদলে যাবে। সবাই মিলে একসঙ্গে এথনিক পোশাকে গ্রুপ ফটো তুলে সেই স্মৃতি ল্যাপটপের ওয়ালপেপারেও রাখতে পারেন।
নিজের কাজের ডেস্কটি একটু গুছিয়ে নিন। ছোট কোনো মাটির পাত্রে ফুল রাখুন বা ডেস্কের কোণায় হালকা করে আলপনা দিন। মাটির প্রদীপ বা ছোট শো-পিস দিয়ে ডেস্কে পয়লা বৈশাখের ছোঁয়া আনতে পারেন। এতে কাজের একঘেয়েমি কাটবে এবং মনের মধ্যে একটা উৎসবের অনুভূতি তৈরি হবে।
বাঙালির উৎসব মানেই তো মিষ্টি। বড় কোনও আয়োজন সম্ভব না হলেও টিফিন ব্রেকের সময় সহকর্মীদের জন্য রসগোল্লা, সন্দেশ বা ঘরোয়া কোনো পিঠে-পুলি নিয়ে আসতে পারেন। একসঙ্গে ভাগ করে মিষ্টি খাওয়ার এই আনন্দ সম্পর্কের তিক্ততা মুছে নতুন বছরের শুরুটা সুন্দর করবে।
পয়লা বৈশাখের দুপুরে ক্যান্টিনের খাবার বা সাধারণ স্যান্ডউইচ না খেয়ে সহকর্মীরা মিলে ‘পট-লাক’ (Pot-luck)-এর আয়োজন করতে পারেন। কেউ আনলেন লুচি-আলুর দম, কেউ বা বাসন্তী পোলাও বা কষা মাংস।
কাজের ফাঁকে হাতে তৈরি কার্ড বা ছোট কোনও গাছ (ইনডোর প্ল্যান্ট) সহকর্মীদের উপহার দিতে পারেন। ডেস্কে একটা ছোট নোটে ‘শুভ নববর্ষ’ লিখে রাখা বা ইমেলের সিগনেচারে নববর্ষের শুভেচ্ছা যোগ করা— এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই অফিসের কাজের চাপ কমিয়ে উৎসবের আমেজ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
অফিস মানেই যে শুধু কাজের জায়গা, তা নয়। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সহকর্মীদের সঙ্গে এই নতুন বছরের শুরুটা হয়ে উঠতে পারে আজীবনের স্মৃতি।