
গরমে রাতে একটু শান্তির ঘুমের জন্য অনেকেই নানারকম পন্থা বেছে নেন। কেউ ঘরের এসি ফুল স্পিডে চালিয়ে দেন, কেউ আবার রাতে ঘুমনোর সময় শরীর থেকে পোশাকের বোঝা যতটা সম্ভব কমিয়ে ফেলেন। বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে রাতে খালি গায়ে ঘুমনোর অভ্যাস অত্যন্ত সাধারণ। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ঘুম বিশেষজ্ঞরা এই অভ্যাস সম্পর্কে ঠিক কী বলছেন? খালি গায়ে ঘুমনো কি শরীরের জন্য ভালো, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনও স্বাস্থ্যঝুঁকি?
সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে কম পোশাকে বা খালি গায়ে ঘুমনোর বেশ কিছু চমকপ্রদ স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। তবে এর কিছু নেতিবাচক দিকও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
১. শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও গভীর ঘুম:
আমাদের দ্রুত ও গভীর ঘুমে যাওয়ার জন্য শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা (Core Temperature) কিছুটা কমে যাওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, খালি গায়ে শুলে শরীরের তাপমাত্রা প্রাকৃতিকভাবেই দ্রুত হ্রাস পায়। এটি মস্তিষ্ককে সংকেত পাঠায় যে এখন ঘুমের সময় হয়েছে। ফলে অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়ার সমস্যা কমে এবং ঘুম গভীর হয়।
২. ত্বকের স্বাস্থ্য ও শ্বসন:
সারাদিন আঁটসাঁটো পোশাকের নিচে আমাদের ত্বক সঠিকভাবে বাতাস পায় না। রাতে খালি গায়ে শুলে ত্বক সরাসরি বাতাসের সংস্পর্শে আসে এবং ‘শ্বাস’ নিতে পারে। বিশেষ করে কুঁচকি, বগল বা স্তনের নিচের অংশে যেখানে ঘাম বেশি জমে, সেখানে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
৩. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ হ্রাস:
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ত্বকের সঙ্গে বিছানার নরম চাদরের সরাসরি স্পর্শে শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ বা ‘ফিল গুড’ হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে। একই সাথে এটি মানসিক চাপের হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা কমিয়ে আনে। ফলে মন শান্ত হয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও মেটাবলিজম:
ঠান্ডা বা শীতল পরিবেশে ঘুমনো শরীরের বিপাক হার বা মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। শরীর যখন কিছুটা ঠান্ডা থাকে, তখন তাপমাত্রা ধরে রাখতে অভ্যন্তরীণ ‘ব্রাউন ফ্যাট’ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ক্যালোরি বার্ন করতে শুরু করে, যা পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
উপকারিতা থাকলেও চিকিৎসকেরা কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন-
ধুলোবালি ও অ্যালার্জি: খালি গায়ে শুলে বিছানার চাদরে থাকা ধুলোবালি, মৃত চামড়া এবং ‘ডাস্ট মাইট’ সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে। যাঁদের কোল্ড অ্যালার্জি বা ত্বকে র্যাশের সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি চুলকানি বা হাঁচির উদ্রেক করতে পারে।
এসির তাপমাত্রা ও ঠান্ডা লাগা: অনেকেই এসি বা ফ্যানের তীব্র বাতাসের নিচে খালি গায়ে শুয়ে পড়েন। ভোরের দিকে যখন আবহাওয়া প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা ঠান্ডা হয়, তখন খালি গায়ে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস লেগে সর্দি-কাশি বা পেশিতে টান ধরার (Muscle Cramp) সমস্যা হতে পারে।
বিছানার পরিচ্ছন্নতা: যারা খালি গায়ে ঘুমান, তাদের বিছানার চাদর ও বালিশের কভার সাধারণের তুলনায় অনেক দ্রুত নোংরা হয়। কারণ শরীরের ঘাম ও তেল সরাসরি চাদরে শোষিত হয়। তাই প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুবার চাদর পরিষ্কার করা জরুরি।