
মাসের শুরুতেই রান্নার গ্যাসের দাম বাড়লে কপালে ভাঁজ পড়ে সাধারণ মানুষের। বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে একটি সিলিন্ডার যত বেশিদিন চালানো যায়, ততই সাশ্রয়। অনেক সময় আমাদের অজান্তেই বেশ কিছু ভুলের কারণে প্রচুর গ্যাস অপচয় হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রান্নার পদ্ধতিতে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলে মাসে অন্তত ১০-১৫ শতাংশ গ্যাস বাঁচানো সম্ভব।
১. ঢাকা দিয়ে রান্না করুন
রান্নার সময় কড়াই বা সসপ্যান সবসময় ঢাকা দিয়ে রাখা উচিত। এতে বাষ্প বাইরে বেরোতে পারে না, ফলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়। খোলা পাত্রে রান্না করলে তাপ অপচয় হয় এবং গ্যাসও বেশি খরচ হয়।
২. ভেজা পাত্র সরাসরি আঁচে দেবেন না
অনেকেই ধোয়া ভেজা পাত্র সরাসরি ওভেনে বসিয়ে দেন। এতে পাত্রের জল শুকাতে বেশ কিছুটা গ্যাস খরচ হয়ে যায়। পাত্রটি মুছে বা শুকিয়ে নিয়ে রান্না শুরু করলে সাশ্রয় হবে। একই নিয়ম প্রযোজ্য ফ্রিজ থেকে বের করা খাবারের ক্ষেত্রেও। ঠান্ডা খাবার সরাসরি গরম না করে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে তারপর আঁচে দিন।
৩. ছোট বার্নার ব্যবহার ও আগুনের রং
রান্নার পাত্রের মাপ অনুযায়ী বার্নার নির্বাচন করুন। বড় বার্নারে ছোট পাত্র বসালে আগুনের শিখা পাত্রের বাইরে চলে যায়, যা সম্পূর্ণ অপচয়। এছাড়া খেয়াল রাখুন আগুনের রং যেন নীল হয়। যদি আগুনের রং হলুদ বা লালচে হয়, বুঝবেন বার্নারে ময়লা জমেছে এবং গ্যাস নষ্ট হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বার্নার পরিষ্কার করিয়ে নিন।
৪. প্রেসার কুকারের ব্যবহার
ডাল, মাংস বা শক্ত সবজি সেদ্ধ করার জন্য প্রেসার কুকার ব্যবহার করুন। সাধারণ কড়াইয়ের তুলনায় কুকারে অনেক কম সময়ে রান্না হয়, যা সিলিন্ডারের আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।
৫. সবজি কেটে গুছিয়ে তারপর উনুন ধরান
উনুন ধরিয়ে তারপর সবজি কাটা বা মশলা খোঁজার অভ্যাস ত্যাগ করুন। রান্নার সমস্ত উপকরণ হাতের কাছে গুছিয়ে নিয়ে তবেই গ্যাস জ্বালান। এতে অনর্থক গ্যাস জ্বলে নষ্ট হবে না।
সুরক্ষায় বিশেষ নজর
সাশ্রয়ের পাশাপাশি সুরক্ষাও প্রধান। রাতে ঘুমানোর আগে বা বাড়ি থেকে বেরনোর সময় রেগুলেটর বন্ধ করতে ভুলবেন না। পাইপ বা সিলিন্ডারে কোনো লিক আছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করান। গ্যাসের গন্ধ পেলে দ্রুত জানলা-দরজা খুলে দিন এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
হেঁশেলের এই ছোট ছোট পরিবর্তনই আপনার মাসকাবারি খরচে বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে। মনে রাখবেন, অপচয় রোধই হলো বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রেষ্ঠ সঞ্চয়।