
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে অক্ষয় তৃতীয়া এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে। আগামী ১৯ এপ্রিল দেশজুড়ে পালিত হবে এই মহাপুণ্যতিথি। শাস্ত্র মতে, এই দিনটি আমাদের শেখায় যে সঠিক সময়ে করা বিনিয়োগ এবং ঈশ্বরের প্রতি অটুট শ্রদ্ধা জীবনকে শ্রীমণ্ডিত ও সুখময় করে তুলতে পারে।
পৌরাণিক কথা অনুযায়ী, অক্ষয় তৃতীয়ার তিথি ভগবান বিষ্ণু ও দেবী লক্ষ্মীর অত্যন্ত প্রিয়। সোনা বা স্বর্ণকে স্বয়ং লক্ষ্মীর স্বরূপ এবং সূর্য দেবতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র জানাচ্ছে, এই বিশেষ দিনে সূর্য এবং চন্দ্র— উভয়ই তাঁদের উচ্চ রাশিতে অবস্থান করেন। ফলে এই সময়টি যে কোনও মূল্যবান ধাতু বা বস্তু কেনার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ। এই শুভ লগ্নে সোনা কেনা মানেই ঘরে সুখ-সমৃদ্ধিকে সাদর আমন্ত্রণ জানানো।
সোনা এমন এক ধাতু যার উজ্জ্বলতা এবং মূল্য সময়ের সঙ্গে ফিকে হয় না। অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা কেনা কেবল বৈষয়িক সুখের জন্য নয়, বরং এটি একটি স্থায়ী পুঁজি যা সংকটের সময় সবচেয়ে বড় অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়। এই দিনটিতে করা বিনিয়োগ বংশপরম্পরায় আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করে এবং পরিবারে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার করে। এটি আমাদের শেখায় যে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ও ভবিষ্যতে বড় আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করতে পারে।
ভবিষ্য পুরাণ এবং মৎস্য পুরাণে অক্ষয় তৃতীয়ায় স্বর্ণদানের বিশেষ মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই পুণ্য তিথিতে সাধ্যমতো সোনার সামান্য অংশ কোনো অভাবী মানুষ বা মন্দিরে দান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়। এমনকি এই দানের মাধ্যমে পিতৃপুরুষরা তৃপ্ত হন এবং বংশধরদের সুখ-শান্তির আশীর্বাদ দেন। দান কেবল সম্পদ ভাগ করে নেওয়া নয়, এটি মানুষের স্বভাবের মধ্যে বিনম্রতা এবং উদারতা নিয়ে আসে।
অক্ষয় তৃতীয়া আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত সমৃদ্ধি কেবল অর্থ সঞ্চয়ে নয়, বরং তা ঈশ্বর ভক্তি এবং মানব কল্যাণের মধ্যেও নিহিত। সোনা কেনা ও দান করার এই ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে ভারতীয় সমাজকে সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করে আসছে। ১৯ এপ্রিলের এই শুভ মুহূর্তটি তাই প্রতিটি মানুষের জীবনে নিয়ে আসুক অনাবিল আনন্দ ও অক্ষয় সৌভাগ্য।